সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ নভেম্বর : পাকা ধানে মই দিয়েছে প্রকৃতি। সাধের সোনালী ফসল থেকে আয়ের আশা দুরাশায় পরিণত হয়েছে। ধান চাষীরা জেনে গেছেন গোলায় উঠবে না ধান তাই জমিতে আগুন ধরিয়ে দিলেন তাঁরা। নিজেদের হাতে আগুন ধরালেন নিজেদের লাগানো সোনালী স্বপ্নের উপত্যকায় । উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে বিঘার পর বিঘা ধান জমিতে দাউদাউ করে দিনভর জ্বলল আগুন।

সত্যি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়। সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশের মত বঙ্গে ও চাষীদের হাল বড়ই বেহাল। বরং আরও খারাপ হয়ে চলেছে। হীরক রাজার দেশের গানে বলা হয়েছিল, সোনার ফসল ফলায় যে তার দুই বেলা জোটে না আহার আর বঙ্গের ধূপগুড়িতে সোনার ফসলের ক্ষেতে, নষ্ট হওয়া স্বপ্নের ধান জমিতে বাধ্য হয়ে আগুন ধরিয়ে দিলেন। বাড়ি পৌছবে না ধান, গোলায় উঠবে না ধান। কেন এই কৃষিক্ষেত্র। হতাশায় কৃষি জমিতে আগুন লাগিয়ে দিলেন ধানচাষীরা। বিঘের পর বিঘে ধান গাছ পুড়ে ছাই হয়ে গেল আগুনের লেলিহান শিখায়। জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি থেকে কিছু দূরে চাষীরা নিজের হাতে রোপন করা ধান গাছের নিজেরাই আগুন লাগালেন।
মাগুরমারী দু নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম মল্লিক পাড়ার ঘটনা কেবলমাত্র বিক্ষিপ্ত একটি ঘটনা নয়। একাধিক কৃষক কৃষি জমিতে আগুন ধরিয়েছেন। করবেনই বা কী? প্রথমে খরায় মার খেতে চলেছিল ধান চাষ। জল আনতে গিয়ে খরচ হয়েছিল। প্রচুর খরচ খরচা করে সোনার ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগে অতি বৃষ্টি ও বন্যায় সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক কৃষকদের। বিশেষ দাম পাওয়ার উপায় ছিল না। হতাশাওওয়াক্ষেপে আগুন ধরিয়ে দিলেন কৃষি জমিতে। ধানচাষীদের মাথায় হাত, সারা বছর চলবে কি করে? ধান চাষের উপর দিয়ে চলত সংসার। প্রকৃতি দেবী বিমুখ ছিলেন, এখন একটাই ভরসা সরকার যদি মুখ তুলে চান।আর সেই আশায় বাঁচতে চায় উত্তরবঙ্গের ধান চাষা। তাদের পাকা ধানে মই দিয়েছে প্রকৃতি, সরকারি সাহায্যই এখন ভরসা। নইলে না খেতে পেয়ে বাঁচবেন কী করে?
আরও পড়ুন


More Stories
বউ বদল : ময়নাগুড়িতে স্বামী-স্ত্রীর বদলাবদলি নাকি বদলা ?
চলে গেলেন সারিন্দার পাখি মঙ্গলাকান্ত
আসাম মডেলের পদাঙ্ক অনুসরণ, উত্তরবঙ্গের চা বাগানে আশার আলো