Home » মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট

মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক : এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন রায়ে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বঙ্গে এই প্রথম আদালতের রায়ে দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ।

বড় এক আইনি সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টের। কলকাতা হাইকোর্ট দলত্যাগ বিরোধী আইনে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করল।  পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিধায়ক পদ খারিজ এক মুদিরবিহীন দৃষ্টান্ত । মুকুল রায়কে কার্যত আইনি ভাবে বিধায়ক পদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। দেবাংশু বসাকের নেতৃত্বে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়ের আনা পিটিশনের শুনানি শেষের রায় দিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ জানায় মুকুল রায় বিধানসভার বিধায়ক পদের যোগ্য নন এবং তার বিধায়ক পদ বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, মুকুল রায় ২০২১ সালের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন এবং সে বছরই আগস্ট মাসে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। আর এনিয়ে ২০২১ সালেই আপত্তি তুলেছিলেন বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়।২০২১ সালে প্রথম বিজেপি-র অম্বিকা রায় মামলা করেন এ নিয়ে। সেই সময় মুকুলকে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করায় আপত্তি জানান তিনি। বিজেপির টিকিট জয়ী হয়েও তৃণমূলে যোগদান করে কী করে পিএসি -র চেয়ারম্যান তিনি হলেন সে বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন অম্বিকা রায়। অতঃপর শুভেন্দু অধিকারী একটি পিটিশন দাখিল করেন। উল্লেখ্য, স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজ বা পিএসি-র চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁকে সরানোর প্রশ্ন ওঠে না। কারণ তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও বিজেপি-তেই আছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আনা মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিধায়ক পদ খারিজ করারও আবেদন জানিয়েছিলেন। তা মঞ্জুর না হওয়ায় বিরোধী দলনেতা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং পিটিশন দাখিল করেন। তিনি বিজেপি টিকিটের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও মুকুল রায়ের তৃণমূল দলে যোগদানকে চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ ছিল, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ বহাল আছে কেন?সেই সময় কলকাতা হাইকোর্ট বিধানসভার অধ্যক্ষকে নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখতে বলা হয়। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয় বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এর পরও সব খতিয়ে দেখে বিমান জানান, মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের প্রশ্ন ওঠে না। তার কাছে যে তথ্য প্রমাণ আছে তাতে মুকুল রায়ের পথ খারিজের প্রশ্ন ওঠেনা বলে জানিয়েছিলেন স্পিকার। বিজেপি ঘোর আপত্তি তোলে এবং জানায় মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে এবং দল দেখে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। মুকুল রায়ের দৃষ্টান্ত গণতন্ত্রের উজ্জ্বল নিদর্শন রয় বলে জানিয়ে ২০২৩ সালে আবার আইনের দ্বারস্থ হয় বিজেপি এবং তারপরে দীর্ঘদিন ধরে শুনানি চলে। শুনানির শেষে আদালত বৃহস্পতিবারই তাদের রায় শোনায়। বঙ্গে এই প্রথম দলত্যাগ বিরোধী আইনে আদালতের রায় কোন বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজ হল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন,সংবিধানের জয় হয়েছে। দশম তফশিলের জয় হয়েছে। ১৫ বছর ধরে সংবিধান লংঘন করা হয়েছে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। কেউ দল ছেড়েও যেতে পারেন। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য সেক্ষেত্রে পদত্যাগ করে অন্য দলে যান। তিনিও দল এবং পদ ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।

এ বিষয়ে, তৃণমূলের অরূপ চক্রবর্তী জানান, “আমরা বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করতে পারি না। কিন্তু বিচারব্যবস্থা সবক্ষেত্রে এক রায় দিলে ভাল হত। শুভেন্দু অধিকারীর বাবা এবং ভাইয়ের ক্ষেত্রে এসব দেখিনি আমরা। শুভেন্দু রাজনৈতিক ভাবে একজন দ্বিচারী ব্যক্তি।” মুকুল রায়ের বাবা এবং ভাই এবং সর্বোপরি বিজেপির অগণতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন রাজ্যের সরকার ফেলার তথ্য তুলে এনে তৃণমূল জানিয়েছে, যে বিজেপি একের পর এক ক্ষেত্রে নিজেরাই সংবিধান মানে না তাদের বড়বড় কথা শোভা দেয় না। সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী আদালতের রায় কে স্বাগত জানিয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কে আক্রমণ করে বলেছেন, এবার তার পদত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি সুজন চক্রবর্তী এও বলেছেন, সংবিধান মানা বা না মানা নিয়ে কোনও কথা শুভেন্দু অধিকারীর মুখে মানায় না। তিনি বলেন, তাঁর নিজের দলেও তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে নিয়ে আসার মনোভাব কাজ করে। ওঁর পরিবারের মধ্যেও আছে। ফলে শাক দিয়ে মাছ ঢেকে লাভ নেই। এরা সংবিধানকে মান্যতা দেয় না, না পশ্চিমঙ্গের শাসক, না দিল্লির শাসক। বোধ থাকলে স্পিকার বুঝবেন, এর পর আর ওই পদে থাকা উচিত নয় বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের । ” উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে বিজেপি,তৃণমূল বা অন্য দলগুলির বিভিন্ন বক্তব্য থাকলেও যাকে নিয়ে এত কাণ্ড তিনি কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেওয়ার অবস্থায় নেই। গুরুতর অসুস্থ তিনি। তবে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ হওয়া নিয়ে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে  বিজেপির যে পলিটিক্যাল এডভান্টেজ হল তা বলাইবাহুল্য।।

 

About Post Author