Home » বাংলাদেশে কট্টর পাক বিরোধী মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের জয় কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

বাংলাদেশে কট্টর পাক বিরোধী মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের জয় কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১৩ ফেব্রুয়ারি : এবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের জয়জয়কার। এরমধ্যে একজনের কথা আলাদা ভাবে না বললেই নয়। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মোট ১,৩২,৫৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ, যিনি পেয়েছেন ৫৫,৬৪৬ ভোট । অর্থাৎ ফজলুর রহমান ৭৬,৯০৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তাঁর কথা আলাদাভাবে না বললেই নয়। কেন তিনি আলাদা? তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলনের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জামায়াত শিবিরের বরাবরই কট্টর বিরোধী। তিনি ভোটের প্রচারের সময় বারবার ভুলে এসেছেন জামায়েত জেতা মানে দেশ পাকিস্তানের হাতে চলে যাওয়া। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান নিয়ে কয়েকটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, যার ফলে তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

কী বলেছিলেন তিনি? তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং এর পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ‘কালো শক্তি’ (জামায়াত-শিবির) ছিল আন্দোলনকারীদের মদতদাতা। একটি টেলিভিশন টকশোতে ফজলুর রহমান জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের ‘অভিনেতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে তারা প্রকৃত নেতা নন, বরং কেবল পারফর্মার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি ছাত্রদের ‘রাজাকারের সন্তান’ বা ‘আল-বদরের সন্তান’ বলে সম্বোধন করেছেন, যা বাংলাদেশের জনগণের একাংশের মধ্যে তীব্র জনরোষ তৈরি করে।

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি তাকে ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট একটি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয় । দলের পক্ষ থেকে বলা হয় যে তার বক্তব্য শহীদদের প্রতি অবমাননাকর এবং দলীয় আদর্শের বিরোধী। পরে তার জবাবে সন্তুষ্ট হতে না পেরে বিএনপি তাকে ৩ মাসের জন্য দলের সকল পদ থেকে স্থগিত করে । যদিও ফজলুর রহমান পরবর্তীতে দাবি করেছিলেন যে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি ‘কালো শক্তি’ বলতে ষড়যন্ত্রকারীদের বুঝিয়েছিলেন।

 এত কিছুর পরেও ফজলুর রহমান পিছু হটেন নি।  আলবদরের সন্তান যার অর্থ নিষ্ঠুর মৃত্যু দূত ও রাজাকার তথা পাকিস্তানি খানসেনাদের ঔরসজাত সন্তান হিসেবে জামায়াত শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের  তিনি ধিক্কার জানিয়ে এসেছেন। তিনি স্বঘোষিত কট্টর পাকিস্তান বিরোধী এবং তিনি ক্যামেরার সামনে একাধিক বার বলেছেন শেখ হাসিনার বিচার বা ফাঁসির আদেশ তিনি মানেন না এবং এই আদেশ গণতন্ত্র বিরোধী। ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি তাঁর অবস্থান থেকে তিনি সরে আসেন নি।ভোটের প্রচারে তার মূল এজেন্ডা ছিল পাকিস্তানের বিরোধিতা। তিনি ভোটে জয়ী হওয়ার পরে তাঁর জয় উৎসর্গ করেছেন মুজিবর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে। তিনি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী। সবমিলিয়ে তাঁর জয় বাংলাদেশের নির্বাচনের একটি অনন্য অধ্যায় যা প্রমাণ করে বাংলাদেশের একটি বিরাট অংশের মানুষ এখনও পাকিস্তান নয়, ভারতের সুসম্পর্ক চায়।।

About Post Author