সানি রায়, উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধি : বলা হয়, কুপিতা বা কুসন্তান থাকতে পারে- কুমাতা কখনও হয় না। সব উক্তি ও প্রবচনকে মিথ্যে প্রতিপন্ন করল আলিপুরদুয়ারের তরুণী গৃহবধূ পূজা দে ঘোষ। নৃশংস শুধু নয়, অবিশ্বাস্য ভাবে নিজের গর্ভজাত শিশুসন্তানকে খুন করে প্লাস্টিক ব্যাগে করে ভারী কিছু দিয়ে পুকুরে ডুবিয়ে দেয়। মায়ের হাতে ৭ মাসের শিশুকন্যাকে খুনের এই নজিরহীন কাণ্ড আলিপুরদুয়ারের চেচাখাতার। শুক্রবার দুপুর থেকেই নিখোঁজ ছিল অবলা শিশু। অথচ হেলদোল ছিল না মায়ের। রাতে জলাশয় থেকে উদ্ধার হয় তার দেহ। অভিযুক্ত পূজা দে ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের জেরায় স্বকণ্ঠে নিজের অপরাধ স্বীকার করা পূজাকে যখন পুলিশ নিয়ে যাচ্ছিল, তখন মারমুখী হয়ে ওঠে জনতা। তাদের হাতে তুলে দিতে বলে ” খুনি মাকে “। কেন এই খুন -তার ভাসাভাসা উত্তর মিলেছে তদন্তকারী পুলিশদের কাছ থেকে। স্বামী খুনের সময় বাড়িতে ছিলেন না। স্ত্রী বলছিল- শশুরকে খেতে দিয়েছে স্নান করে ফিরে এসে সে মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছে না। পুলিশ ও স্থানীয় মানুষ তার কথার মধ্যে অসঙ্গতি খুঁজে পাচ্ছিল। রাতে পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়া পূজা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, পারিবারিক ঝগড়ায় সংসার জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে সে এরকম কাজ করেছে। কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া কে ঘিরেই তাকে কটুক্তি শুনতে হতো কিনা যার জেরে এই ভয়ঙ্কর অপরাধ পুলিশ তা সুস্পষ্ট করে নি। তার মানসিক অবসাদ কতটা তাও জানা যায় নি। পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখতে চেষ্টা করছে। এই নৃশংস অপরাধে অন্য কারও প্ররোচনা বা অন্য কোনো যোগসূত্র ছিল কিনা পুলিশ তাও খতিয়ে দেখছে।।


More Stories
ইসলামপুরে দুষ্কৃতীর গুলিতে নিহত প্রধান শিক্ষক
দেবরাজকে ১৫০ পাতার চার্জশিট, খারিজ জামিনের আবেদন
গ্যাংষ্টার আতিক আহমেদের পুত্র নিহত