Home » নতুন বোতলে পুরনো মদ : সুপ্রিম নির্দেশে বন্ধ ইলেক্টোরাল বন্ডের বদলে বাড়ছে অনুদান

নতুন বোতলে পুরনো মদ : সুপ্রিম নির্দেশে বন্ধ ইলেক্টোরাল বন্ডের বদলে বাড়ছে অনুদান

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর: ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনী বন্ড বা ইলেক্টোরাল বন্ড বাতিল করার নির্দেশ দেয়। এখন বন্ড বাতিল হয়েছে, তবুও অনুদান দেওয়া বন্ধ হয়নি। বন্ড বন্ধ হওয়ার পরে যেকোনো বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তি রাজনৈতিক দলগুলিকে চেক, ডিমান্ড ড্রাফট, ইউ পি আই ও ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অনুদান তো দিতেই পারে! শুধু সেই অনুদান সংক্রান্ত রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জানাতে হয়। আর সেটাকেই ঢাল করেছে রাজনৈতিক দলগুলি এবং ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট। যেমন ধরা যাক, প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট- কে। ২০২৪-২৫ অর্থ বর্ষে এই ট্রাস্ট যে ২৬৬৮ কোটি টাকা পেয়েছিল তার মধ্যে ২১৮০. ০৭ দিয়েছে বিজেপিকে। অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ। প্রুডেন্ট সেই নটি ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের অন্যতম এবং অগ্রগণ্য যাদের অনুদান পেয়েছে বিজেপি। সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনী বন্ধ হলে কী হবে! নতুন বোতলে পুরনো মদ বিক্রি হয়ে চলেছে। আইন আছে তো কি হয়েছে, আইনের ফাঁকও তো রয়েছে।আর সেই ফাঁক গলেই ইলেক্টোরাল বন্ড বন্ধ হওয়ার পরেও চলছে অনুদান।

ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি ২০২৪- ২৫ অর্থ বর্ষে চাঁদা পাচ্ছে, পাচ্ছে অনুদান, বর্ধিত আকারে-ই পাচ্ছে। এই অর্থ বর্ষে ৩৮১১ কোটি টাকার আশীর্বাদ বর্ষিত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির উপরে। আশ্চর্যভাবে দেখা যাচ্ছে, ইলেক্টোরাল বন্ড বন্ধের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট গুলির দেওয়া অনুদান বেড়ে গিয়েছে। এবছর অগ্রগণ্য ন’টি ট্রাস্টের প্রাপ্ত অনুদান ৩৮১১ কোটি টাকা, এর মধ্যেই বিজেপির একারই প্রাপ্তি ৩১১২ কোটি টাকা। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থ বর্ষে এই ট্রাস্টের অনুদান ছিল মাত্র ১২১৮ কোটি টাকা। সুপ্রিম নির্দেশের পরে অনুদান বেড়েছে ২০০ শতাংশ আর চাঁদার ৮২ ভাগই বিজেপির ঝুলিতে। ৮% কংগ্রেসের। বাকি ১০% তৃণমূল কংগ্রেস, টিডিপি, আপ সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলির ফান্ডে গিয়েছে। সুতরাং নতুন বোতলে পুরনো মদের ঝাঁঝ বেড়েছে।

কারা এই অনুদান দিয়েছে? জানা গিয়েছে জিন্দাল স্টিল এন্ড পাওয়ার, মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিংরা যেমন প্রুডেন্টকে টাকা দিয়েছে তেমনই অনুদান দেওয়ার দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রগ্রেসিভ ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট অনুদান রয়েছে টাটা গ্রুপের। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে ২০২৩- ২৪ অর্থবর্ষে বিজেপি ৩৯৬৭. ১৪ কোটি টাকা অনুবাদ অনুদান পেয়েছিল যার মধ্যে ৪৩ শতাংশ ছিল ইলেকটোরাল বন্ডের টাকা। ইতিমধ্যেই এ বছর বিজেপির ইলেক্টোরাল ট্রাস্টগুলি থেকে প্রাপ্ত টাকা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বেশি। সুপ্রিম কোর্ট ইলেক্টোরাল বন্ড বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে তো কি হয়েছে, ঘুরিয়ে নাক দেখা চলছেই। প্রবল ভাবেই চলছে। এখন, নতুন বোতলে পুরনো মদ ।।

About Post Author