পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১৮ জুন : এখন বাংলাদেশী মুদ্রায় ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় মুদ্রার ৭৯ টাকা, ইউনূসের আমলে পাওয়া যেত ৭৩ টাকা । বাংলাদেশ কি দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠছে? প্রশ্ন উঠতেই পারে। ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি তুল্যমূল্য বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ভারত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সংক্রান্ত আলোচনায় সুস্পষ্ট যে উভয় দেখি অর্থনৈতিক উন্নতির ইঙ্গিত রাখছে।
সার্বিকভাবে ভারত বাংলাদেশের তুলনায় মোট অর্থনীতির আকারে অনেক এগিয়ে। ভারত (৪.১ ট্রিলিয়ন ডলার) বাংলাদেশের ($৫১০ বিলিয়ন) চেয়ে বহু গুণে বড় এবং এগিয়ে রয়েছে । অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হলেও মাথাপিছু জিডিপি (GDP Per Capita)-র বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে। কী বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF ) এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক?
মোট জিডিপি বা GDP (Nominal)-এর হিসেবে ভারতের স্থান বিশ্বে ষষ্ঠ। তবে ক্রয় ক্ষমতার সমতা বা Purchasing Power Parity (PPP)-এর বিচারে ভারতের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। পাশাপাশি, ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)-এর ভিত্তিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি (PPP) বিবেচনায় বাংলাদেশের স্থান ২৪তম বা ২৬তম।
নামমাত্র মাথাপিছু জিডিপি (Nominal GDP per capita): ভারতের মাথাপিছু আয় প্রায় $২,৮১০ থেকে $৩,০৫১-এর কাছাকাছি, যার ফলে গ্লোবাল র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের স্থান ১৪৪ থেকে ১৫০ এর মধ্যে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে কয়েক ধাপ এগিয়ে আছে। ক্রয়ক্ষমতা সমতা (GDP per capita based on PPP) গত বিচার করতে গেলেই বিষয়টি আরও সঠিকভাবে উপলব্ধ হবে। ক্রয়ক্ষমতার দিক বিবেচনা করলে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় $১২,৯৬৪, এবং এই হিসাবে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের অবস্থান বিশ্বে সামনের সারিতে । মোট অর্থনৈতিক আকার বা মোট জিডিপি (Total GDP)-র দিক থেকে ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বা ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।ক্রয় ক্ষমতা ক্ষমতার বিচারে ভারত ও বাংলাদেশ প্রায় গায়ে গায়ে নিশ্বাস ফেলছে।
২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ২,৯১১ মার্কিন ডলার এবং ভারতের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ২,৮১২ মার্কিন ডলার।যদিও মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ সামান্য এগিয়ে তবে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি হলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সবচেয়ে স্পষ্ট নির্দেশক। এর মাধ্যমে একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতিটি নাগরিকের গড় আয় পরিমাপ করা হয়।জীবনযাত্রার মান (Human Development Index – HDI) লক্ষণীয়। শুধুমাত্র অর্থ থাকলেই হয় না, বরং সেই অর্থের সুফল নাগরিকরা কতটা পাচ্ছেন তা নির্ভর করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার হার, এবং গড় আয়ুর ওপর। উন্নত দেশগুলোর এই সূচক অনেক বেশি হয়।উন্নত পরিকাঠামোর বিষয়টিও লক্ষণীয়।একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে উন্নত রাস্তাঘাট, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা থাকে, যা ব্যবসার প্রসার ও বিনিয়োগে সাহায্য করে।কম বেকারত্ব ও মজবুত মুদ্রা: শক্তিশালী অর্থনীতিতে কাজের প্রচুর সুযোগ থাকে এবং বেকারত্বের হার কম থাকে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে সেদেশের মুদ্রার মান (যেমন: মার্কিন ডলার বা ইউরো) বেশ স্থিতিশীল ও শক্তিশালী। ভারত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সংক্রান্ত তথ্যের শেষে উভয় দেশের জিডিপির দিকে তুলনামূলকভাবে আরেকবার নজর রাখা যায়।
তবে যদি সাম্প্রতিক সময়ের দিকে নজর রাখা হয়, ২০২৬ সালে ভারতের মোট দেশীয় উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ আনুমানিক ৪.১৫ ট্রিলিয়ন (৪.১৫ লক্ষ কোটি) মার্কিন ডলার। ১ বছর আগে (২০২৫ সালে) ভারতের জিডিপি ছিল প্রায় ৩.৯১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, গত এক বছরে ভারতের জিডিপি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের মাথাপিছু নিট জাতীয় আয় (NNI) ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১,৮৮,৮৯২ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২,০৫,৩২৪ টাকায় উন্নীত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ অর্থনীতিভাবে উন্নতি করছে তার প্রমাণ মিলছে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জিডিপি (GDP) প্রায় ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জিডিপির আকার অনুসারে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং ঠিক এক বছর আগে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ জিডিপি পরিষ্কার ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।সম্প্রতি ভারতীয় ১০০ টাকা কিনতে হলে বাংলাদেশি মুদ্রায় দিতে হচ্ছে ১২৩ টাকা যা কিছুদিন আগেও ছিল ১৪০ টাকায়। ফলে ভারত যেরকম বিগত এক বছরে অর্থনীতির উন্নতি ঘটিয়েছে, বাংলাদেশও অর্থনৈতিক দুরবস্থার দ্রুত কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত রাখছে।।


More Stories
ডিএ এবং বেতনবৃদ্ধি, সরকারি কর্মীদের নিয়ে রাজ্য কী বলছে?
আপনার ভুলে যাওয়া টাকা কি পড়ে আছে কোথাও? এখনই খুঁজে নিন — সরকারি পোর্টালে বিনামূল্যে!
ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?