Home » বিজেপি নেত্রীকে পদাঘাত বা সাংবাদিককে জেলে পাঠানো আরশাদ উজ জামানকে তোলা হল আদালতে, কে এই আরশাদ?

বিজেপি নেত্রীকে পদাঘাত বা সাংবাদিককে জেলে পাঠানো আরশাদ উজ জামানকে তোলা হল আদালতে, কে এই আরশাদ?

দীপ সেন ও পুরন্দর চক্রবর্তী, ২৩ সেপ্টেম্বর : বুধবার বারাসাত আদালতে তোলা হল তৃণমূলের দাপুটে নেতা আরশাদ উদ জামানকে। একদা বারাসাত আদালতের মুহুরী থেকে কালে কালে তার প্রতাপ বৃদ্ধি পেয়েছে তৃণমূল জমানায়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অধ্যক্ষের পদে বিচরণ করা আরশাদের উত্থান ঝড়ের গতিতে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল বামনগাছি কদম্বগাছি থেকে পীরগাছা বিস্তীর্ণ অঞ্চল অঞ্চল জুড়ে তার দাপটে লোকের তটস্থ হয়ে থাকত।কেউ তাঁর কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনি।অথচ পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার কর্মকাণ্ড ছিল সুদূরপ্রসারী।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ তার বিরুদ্ধে যে, এক বিজেপি মহিলা কর্মীকে মারধর করেছিলেন নৃশংসভাবে ।  বিজেপির ডাকা বনধে প্রকাশ্যে পদাঘাত করেছিলেন  বিজেপি নেত্রীকে। কী হয়েছিল সেদিন?

২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে দুই ছাত্রের মৃত্যুর প্রতিবাদে সেদিন বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে ১২ ঘণ্টার বাংলা বনধ (ধর্মঘট) ডাকা হয়েছিল। ২৬ সেপ্টেম্বর বিজেপির ডাকা বনধের সময় বারাসতের পীরগাছা রেলগেট অবরোধে শামিল হয়েছিলেন বহু বিজেপি নেতা -নেত্রী ও কর্মী। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিজেপি নেত্রী নীলিমা দে সরকার। সেদিন সকালে এগারোটা নাগাদ রেলগেট থেকে কয়েক মিটার দূরে বিক্ষোভ চলাকালীন তৃণমূল নেতা আরশাদ ও তার সহযোগীরা বিক্ষোভকারীদের দিকে ছুটে যান এবং বিক্ষোভ অবস্থানের সামনে থাকা দিপালী দে সরকারকে লাথি মেরে রাস্তায় ছিটকে ফেলে দেন আরশাদ উজ জামান । কোমর ও বুকে প্রচন্ড আঘাত পান দিপালী দে সরকার। তাকে বহুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক তোলাবাজি, নির্যাতন ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। সবকিছু খতিয়ে দেখছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছে। তাকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হবে কিনা তা পরবর্তী বিষয়। তবে এটুকু পরিষ্কার এককালে যে শীর্ষ নেতা নেত্রীরা তার মাথায় স্নেহের হাত রেখেছিলেন তারা আজ নিজেদের টালমাটাল অবস্থা সামলাতেই ব্যস্ত। অথচ এককালে কদম্বগাছি বামনগাছি অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্যের অধিকারী  আরশাদ বিভিন্নভাবে নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে এদেরকেই সাহায্য করেছিল। আজ তাঁরা কোনঠাসা। ফলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা-নেত্রীদের স্নেহধন্য অভিযোগের পাহাড়ে বসে থাকা  আরশাদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

হয়তো অনেক অভিযোগে সামনে আসবে, তবুও আরশাদ উজ জামানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ সামনে আসবে না। যেমন তার এলাকার সাংবাদিক আব্দুর রহিমের অভিযোগ, তাঁকে ৬৩ দিন জেল খাটতে হয়েছিল আরশাদের অভিযোগক্রমে। আব্দুর রহিম আজও বলে থাকেন, তাঁকে অকারনে ফাঁসানো হয়েছিল। রহিমের মতো অত্যাচারিতরা সামনে না এলেও  প্রতীক্ষায় ছিলেন। এখন তারা বলছেন ধর্মের কল বাতাসে নড়ে!

About Post Author