সময় কলকাতা ডেস্কঃ হাঁসখালী কাণ্ডে নির্যাতিতাকে যে শশ্মানে পোড়ানো হয়েছিল তার কোন রেজিষ্ট্রার ছিল না।আর রেজিষ্ট্রার বিহীন শশ্মানে মৃতদেহ পোড়ানো হলে মেলে না কোন কাগজ।বরং বলা ভাল এই ধরনে শশ্মানে দাহ করাও এক ধরনে অপরাধ।হাঁসখালীর ঘটনাতে সেই অপরাধ সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ।হাঁসখালীতো রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার প্রত্যন্ত জায়গা। কিন্তু হাওড়া পুর নিগমেও এমন একটি শশ্মান রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।এই জায়গাটি হাওড়া পুর নিগমের উনসানী খাল পাড় ১২ নম্বর রেল গেটের পাশে।স্থানীয় বাসিন্দা দীনেশ বাগের দাবি ছোট বেলা থেকেই এই জায়গাটি কে তাঁরা শশ্মান বলেই জানেন। আর শশ্মানের চরিত্র মেনে রয়েছে মা কালীর মন্দির।স্থানীয় মানুষ বছরে এক বার কালী পুজার জন্য এলাকাটিকে পরিস্কার করে।শশ্মানের পাশেই রয়েছে একটি ক্লাব।সেই ক্লাব থেকেই সব দেখা শোনা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা দীনেশ বাগ জানান মধ্য রাতে প্রায়শই এই শশ্মানে মৃতদেহ দাহ করার জন্য নিয়ে আসা হয়।কখনও সখনও মৃতদেহ পুঁতে দেওয়া হয়।তিনি বলেন শশ্মানে ঢুকলে শহীদ বেদী ও পোড়ানোর জায়গা বলে দেবে এই শশ্মান বহু পুরানো।তাঁর দাবি শশ্মানে পোড়াতে গেলে কোন ডেথ সার্টিফেট লাগেনা।কারন এই শশ্মানে নেই কোন রেজিষ্ট্রার তিনি আরো দাবি করেন উনসানী খাল পাড় ১২ নম্বর রেল গেটের পাশে এই শশ্মানে কোন মৃতদেহ পোড়ানো হলে মেলে না পোড়ানোর কোন কাগজ পত্র।
স্থানীয়দের দাবি মূলত গরীব পরিবারের মৃতদেহ এখানে পোড়ানো হয়। সন্ধ্যা নামে মধ্যবয়সী স্থানীয় এক গৃহবধূর দাবি বিয়ে হয়ে আসার পর থেকেই এই জায়গাটিকে তিনি শশ্মান বলে জানেন।মাঝে হাওড়া পুর নিগমের তরফ থেকে পাঁচিল তৈরী ও কিছু উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে।কিন্তু কোন কালেই এখানে কোন রেজিষ্ট্রারকে দেখা যায়নি বলে দাবি সন্ধ্যাদেবীর। তিনি আরো জানান মাঝে মাঝেই মধ্য রাতে শশ্মানে মৃতদেহ দাহ করা হয়।
হাওড়া পৌর নিগমের মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী জানান তাদের পুর নিগমে আওতায় তিনটি শশ্মান আছে।সেই গুলি হল শিবপুর শশ্মান,বাঁধাঘাট শশ্মান, বাঁশতলা শশ্মান।তাঁর দাবি উনসানী খাল পাড় ১২ নম্বর রেল গেটের পাশের শশ্মানের কথা তিনি সদ্য জানতে পেরেছেন।বিষয়টি তিনি নির্দিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের জানিয়েছেন।সত্যই রেজিষ্ট্রার ছাড়া এমন শশ্মান নিগমের এলাকায় রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটিও তৈরী করা হয়েছে।সেই দল খুব শীঘ্রই এই শ্মশান নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেবেন নিগমের প্রশাসককে বলে জানান হাওড়া নিগমের পুর প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী।সেই তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুর প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী।
হাওড়ার বিজেপি নেতা উমেশ রাই নিগমের প্রশাসককে কটাক্ষ করে বলেন, উনি কাজ করছেন না।রোজ রোজ একটি করে বিশেষ টিম নামাছেন মাত্র।বিজেপি নেতা উমেশ রাই এর মতে হাওড়ায় তৃণমূলের বোর্ড ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাঁচ বছরে টাকা পয়সা লুঠ ছাড়া কোন কাজই হয়নি। তাই শ্মশান হোক বা পরিশ্রুত পানীয় জল বা আলো সবই পঞ্চায়েত এলাকার মতোই পরিষেবা দিয়ে আসছে এই পুর নিগম অভিযোগ বিজেপির।


More Stories
নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন তরুণীকে গণ*ধ*র্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার কর্ণধার
তৃণমূল আমলের প্রকল্পের বেহাল দশা, দুর্গন্ধ ঘুরপাক খাচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুরের বাতাসে
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী