সময় কলকাতা ডেস্কঃ এক দিকে যেখানে পুরুলিয়া জেলার প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভূমি সংস্কার দপ্তরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, অপরদিকে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে ফের ভূমি সংস্কার দপ্তরের বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে এবং অর্থের বিনিময় পাট্টা জমি হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠল। এবার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার এক বৃদ্ধকে মারধোর করে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল এলাকার তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুয়া গ্রামের ঘটনা। ঘটনার জেরে আহত বৃদ্ধকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একইসঙ্গে এলাকায় দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বীরুয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেরা খাতুন। বাম আমলে তাঁর নামে ১৫ কাঠা জমি পাট্টা পাওয়া গিয়েছিল। সেই জমিতে সাবেরা খাতুন ও তার পরিবার চাষবাস করে সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু গত বছর থেকে এই জমি দখল নিয়ে ওই এলাকার জমিদারের বংশধর তথা এলাকার তৃণমূল নেতা মুক্তার ও তার দলবল সাবেরা খাতুনের পরিবারের উপর হামলা চালাচ্ছিল বলেই অভিযোগ ওঠে। এমনকি জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি নিয়েও একাধিকবার আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ। এরপর শনিবার দুপুর বেলায় মুক্তার নিজের দলবল নিয়ে সবেরার পাট্টা জমি দখল করে নেয় এবং সেখানে টিনের ঘর তুলতে শুরু করে। এহেন পরিস্থিতিতে সাবেরা ও তার স্বামী ফায়েদ বাধা দিতে গেলে মুক্তারের দলবল তাদের ব্যাপক মারধোর করে। মারের চোটে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে সাবেরার বৃদ্ধ স্বামী। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তৎক্ষণাৎ হরিশচন্দ্রপুর গ্রামে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, সে এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই হরিশ্চন্দ্রপুর ভূমি সংস্কার আধিকারিকের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। মোটা টাকার বিনিময়ে ভূমি সংস্কার আধিকারিক অভিযুক্ত ওই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার মদত জুগিয়েছে বলেই দাবি আক্রান্ত পরিবারের। পাশাপাশি পাট্টা প্রাপক সাবেরা খাতুন গোটা ঘটনায় ন্যায্য বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আক্রান্ত ফায়েদ-এর মেয়ে ফাহিমা সুলতানা জানান,’আমরা ভূমিহীন পরিবার। ওই জমিটি ছাড়া আমাদের আর কিছু নেই। ওই জমিতে চাষবাস করে আমাদের সংসার চলে। এলাকার ভূমি সংস্কার আধিকারিককে পয়সা খাইয়ে ওই তৃণমূল নেতা মুক্তার আমাদের জমি দখল করেছে। জমিটির পাট্টা আমার মাকে দেওয়া হয়েছিল। তার সমস্ত কাগজ পত্র আমাদের আছে।

অন্যদিকে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূলের বিধায়ক তজমুল হোসেন। তিনি জানান,‘দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবার জমিটি ভোগ দখল করছে। তবে অভিযুক্ত মুক্তার তৃণমূলের সদস্য না। বরঞ্চ আক্রান্ত ব্যক্তিরাই তৃণমূলের সদস্য। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভূমি সংস্কার দপ্তরের কেউ জড়িত থাকলে তাকেও কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না।
যদিও রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পুষ্পা রবি দাসের স্বামী সদানন্দ রবি দাস জানান অভিযুক্ত মুক্তার এলাকারই তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হাত ধরে বেশ কয়েক বছর আগে তৃণমূলে যোগদান করে।
এই ঘটনার পরই বিরোধীদের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক বৈঠক সবটাই লোক দেখানো। নিজের দলের লোকেরাই এই সব জোর জুলুম করে জমি জবর দখল করে যাচ্ছে। আর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মচারি সহ পুলিশ কর্মিরাও।


More Stories
ময়নাগুড়িতে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২ তরুণী , আহত ৫
মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ আগুন, মৃত্যু ১
রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে নেতা যখন পরীক্ষার্থীদের মুশকিল আসান