Home » স্বপ্নপূরণের হাতছানি,সত্যজিৎ-র জিত কি হবে?

স্বপ্নপূরণের হাতছানি,সত্যজিৎ-র জিত কি হবে?

সময় কলকাতা ডেস্ক : কমনওয়েলথ গেমস ২০২২ এর আসর বসেছে বার্মিংহামে। সেই আসরে ভারতের পক্ষ থেকে ২১১ জন অ্যাথেলিট অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জয়নগরের কানিয়া রোডের সিরালিপাড়ার বাসিন্দা সত্যজিৎ মণ্ডল। ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপে উত্থান হয়েছিল এই প্রতিভাবান জিমনাস্টের। এখন সে আরও বড় জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। কি ভাবে দিন কাটছে তাঁর বাবা মায়ের? রইল বিশেষ প্রতিবেদন।

কথায় বলে অসম্ভবকে সম্ভব করতে প্রবল ইচ্ছেশক্তির প্রয়োজন হয়। কথাটা সত্যজিৎ মণ্ডলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে খাটে। কারণ ছোটবেলা থেকে দেখে আসা স্বপ্নটাকে সত্যি করতে সে প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছে, পরিশ্রম করে গেছে। সেই পরিশ্রমের ফলাফলস্বরূপ আজ সত্যজিৎ কমনওয়েলথ গেমস ২০২২ এর আসরে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়েছে।

নিজের বাবা ও কাকাকে খেলাধুলা এবং জিমন্যাস্টিক করতে দেখে জিমনাস্টিকের প্রতি আগ্রহ বেড়েছিল সত্যজিৎ মন্ডলের। বাবার কাছে জিমন্যাস্টিকের হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। পড়াশোনার পাশাপাশি চলতে থাকে তাঁর এই অনুশীলন। কলকাতা স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ায় জিমনাস্টিকের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করার পর থেকে বদলে যায় ভাগ্যের চাকা। একের পর জেলাস্তরের প্রতিযোগিতায় প্রথম সারিতে উঠে আসতে থাকে সে।

জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রেল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে খেলতেই সুযোগ আসে ৯ থেকে ১২ই জুন ক্রোয়েশিয়ায় আয়োজিত বিশ্বকাপ জিমন্যাস্টিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার। সেখানে বিশ্বজুড়ে সত্যজিৎ এর প্রদর্শন বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। বাবার আক্ষেপ, সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনও সাহায্য তাঁরা কখনই পাননি। পেলে হয়ত আরও ভালোভাবে ছেলেটাকে তৈরি করা যেত।

জয়নগর মজিলপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কানিয়া রোড সিরালিপাড়ার ছোট্ট বাড়িটাতে জিমখানা আছে, আছে কসরতের যাবতীয় সামগ্রী। বাবা গৃহশিক্ষক হলেও ছেলের ইচ্ছেপূরণে কোনও খামতি রাখতে চাননি। সংসারে অভাব থাকলেও তা যাতে ছেলের স্বপ্নের পথে বাধা না হয়ে ওঠে, সেই দিকেই সবসময় খেয়াল রেখেছেন মা গায়ত্রী মণ্ডল।

কমনওয়েলথ গেমস ২০২২ এ যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সমস্ত অ্যাথেলিটরাই ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে কথা বলেছিলেন। সেইসময় সত্যজিৎ মন্ডলের সঙ্গেও কথা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর। সেই স্মৃতি রোমন্থন করেই এখন আনন্দে চোখ ভিজে আসে সত্যজিৎ এর বাবা মায়ের। দাদার সাফল্যে খুশি ছোট্ট বোন কমলিকা মন্ডলও। তাই দাদার মতো বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাবার হাত ধরে কমলিকা ও শুরু করেছে জিমন্যাস্টিকের অনুশীলন। সত্যজিৎ যাতে পদক জিতে ঘরে ফিরতে পারে, সেই প্রার্থনাই করছে তাঁর পরিবার। কিন্তু সে যদি পদক নাও জেতে, তবুও জিৎ হবে তাঁরই। কারণ সে আগামীর প্রজন্মকে অনেকটা অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছে। সেই অনুপ্রেরণাই নতুন সাফল্যের সূর্য দেখাবে গোটা দেশকে।

About Post Author