সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ মার্চ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে হামলার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। এরপরই ২৩ জন বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। এবার সেই মামলাতেই স্বস্তি বিজেপির। ওই ২৩ জন বিজেপি নেতাকর্মীদের রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে কোনওরকম কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলেই জানিয়েছেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। বিচারপতি মান্থার কড়া নির্দেশ,আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত ২৩ বিজেপি কর্মীর এই রক্ষাকবচ থাকবে। আগামী ৩০ মার্চ আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে হামলার ঘটনায় বিজেপিকে অভিযুক্ত করে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ করে কোচবিহার পুলিশ। কোচবিহারের পুলিশ সুপারের রিপোর্টে বিজেপি কর্মীদেরকে ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। ওইদিনই বিচারপতি মান্থার এজলাসে মামলা করেন কোচবিহারের ২৩ জন বিজেপি সমর্থক।

আরও পড়ুন ভোটার আইডি ও আধার কার্ডের সংযুক্তির সময়সীমা আরও বাড়ল কেন্দ্র, জানুন খুঁটিনাটি
উল্লেখ্য,গত ফেব্রুয়ারি মাসেই কোচবিহারের দিনহাটায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে হামলার ঘটনাটি ঘটে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর কনভয় লক্ষ্য করে বোমা, গুলি ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিজেপি। পাল্টা বুড়িরহাট বাজারে তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসে হামলা চালায় বিজেপি সমর্থকরা। অন্যদিকে বিজেপিই প্রথমে হামলা চালায় বলে পাল্টা অভিযোগ করেন রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ। রাজ্যে ৩৫৫ ধারা জারির দাবি তোলে রাজ্য বিজেপি। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরব হন। ওই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল সেই মামলার শুনানি। কেন্দ্রের দাবি, রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এদিন শুনানিতে কেন্দ্রের তরফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

আরও পড়ুন গ্রামীণ উন্নয়নের টাকায় মেটানো হবে বকেয়া বিদ্যুতের বিল
এদিকে,নিশীথ প্রামাণিকের গাড়ি ঘিরে হামলার ঘটনাকে ‘শোচনীয়’ বলে বর্ণনা করে কড়া বিবৃতি দেয় রাজভবন। বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলায় এই হামলা উদ্বেগজনক ঘটনা। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। তিনি জানান, তদন্তের পাশাপাশি নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে কথাও বলেছেন। এমনকী, দিনহাটার ঘটনায় প্রশাসন কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চেয়ে নবান্নের কাছে রিপোর্টও তলব করেছিলেন আনন্দ। রাজভবনের বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘যাঁদের হাতে দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের সংবিধানের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। বাংলা চায়, প্রত্যেক পুলিশ বা প্রশাসনিক কর্তা, তাঁরা যে দায়িত্বেই থাকুন, তাঁরা ভয় না পেয়ে এবং পক্ষপাত না করে দায়িত্ব পালন করুন।’ রাজ্যপাল এ-ও লেখেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে কোনও কিছুর সঙ্গেই আপস করা হবে না।


More Stories
গ্রেফতার স্বরূপ বিশ্বাস
দিল্লির রাজস্থান বধ
হাতির হামলায় যুবকের মৃত্যু