সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ মেঃ বেশ কয়েকদিন আগেই দণ্ডি কাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য-রাজনীতি। শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল তপনের তৃণমূল নেত্রীকে। মঙ্গলবার চা চক্রে বসে দণ্ডি কাটা সেই মহিলাদের সঙ্গে কথা বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের হাতে খাওয়ালেন চাও। কিছুদিন আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অপরাধের শাস্তিস্বরূপ ৩ মহিলাকে দণ্ডি কাটানোর অভিযোগ উঠেছিল বালুরঘাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। বালুরঘাট সফরে গিয়ে সেই দণ্ডি কাটা মহিলাদের সঙ্গে দেখা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধেয় তপনের চক সাথীহারা গ্রামে যান তিনি। সেখানে গ্রাম লাগোয়া বাজারে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই চা চক্রে গিয়েছিলেন গিয়ে দণ্ডি কাটা ৩ আদিবাসী মহিলা। তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন অভিষেক। শোনেন ঠিক কী ঘটেছিল তাঁদের সঙ্গে। কর্মসূচি শেষে মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের। সেখানেই প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির ইঙ্গিত দেন অভিষেক। বলেন, “যা ঘটেছে তা কখনই দল সমর্থন করে না। দল শাস্তি নেবে।”
আরও পড়ুন ফের বিতর্কিত মন্তব্যে জড়ালেন সারেগামাপা খ্যাত গায়ক নোবেল

উল্লেখ্য,বালুরঘাট মোড় থেকে কাঁঠালপাড়া। প্রায় এক কিলোমিটারের কিছু বেশি রাস্তা। সেই রাস্তায় দণ্ডি কেটে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগদানকারীরা তৃণমূলে ফিরলেন। বিজেপিতে যোগদান করার শাস্তিস্বরূপ সারা শহর দণ্ডিকাটতে হয় ৩ আদিবাসী মহিলাকে। বালুরঘাট বিজেপি অফিসের সামনে থেকে তৃণমূল জেলা কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দণ্ডি কেটে যোগদান করার ছাড়পত্র পান তিন-চারজন আদিবাসী মহিলা। গত সপ্তাহের শুক্রবার ভর সন্ধ্যায় রাস্তাতে এই ধরনের ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত বালুরঘাটবাসী।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডুর উপস্থিতিতে বিজেপির জেলা মহিলা মোর্চার উপস্থিতিতে গোফানগর অঞ্চলের প্রায় ২০০ জন মহিলা এবং তাঁদের পরিবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপিতে যোগদানকারী চার আদিবাসী মহিলাকে বালুরঘাট নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূল মহিলা মোর্চার জেলা সভাপতি প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ‘ঘর ওয়াপসি’ হয় তাঁদের। তবে অভিযোগ, বালুরঘাট কোর্ট মোড় থেকে পার্টি অফিস পর্যন্ত দণ্ডি কাটিয়ে আবার তৃণমূলে যোগ দেওয়ানো হয় তাঁদের।

মুহূর্তের মধ্যে চার আদিবাসী মহিলার দণ্ডি কাটার সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। শুক্রবার রাতে সেই দণ্ডি কাটার ভিডিও টুইট করে সমালোচনার ঝড় তোলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূলের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের অপমান করার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে গর্জে ওঠার ডাক দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। এই পরিস্থিতিতে, শনিবার বিজেপি থেকে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনকারী মহিলাদের বাড়ি পৌঁছন তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু। কথা বলেন স্থানীয়দের সঙ্গে। তবে, খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে, শুক্রবার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিজেপি থেকে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনকারী মহিলা বাড়িতে নেই। বিজেপির অভিযোগ, তাদের ধমকানো হয়েছে। যদিও বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। পরবর্তীতে, তপনের বিজেপির বিধায়ক বুধরাই টুডুর নেতৃত্বে বালুরঘাট জেলা পুলিশ কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি শাসকদলের নেতৃত্ব।


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
অভিষেকের দুয়ারে ইডি
ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?