Home » বুধবার থেকে চাকা গড়াল করমন্ডল এক্সপ্রেসের

বুধবার থেকে চাকা গড়াল করমন্ডল এক্সপ্রেসের

সময় কলকাতা ডেস্ক,৮ জুনঃ আগের সূচি মেনেই বুধবার থেকে চাকা গড়াল করমন্ডল এক্সপ্রেসের। এদিন রাতে দুর্ঘটনাস্থলের উপর দিয়েই যায় করমণ্ডল এক্সপ্রেস! বাহানগা বাজার স্টেশন ছুঁয়ে যখন ট্রেনটা পেরিয়ে গেল, তখন রাত ৯টা ৩৩। গোটা পর্বে ট্রেনের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিমি।এখানেই পাঁচ দিন আগে অন্ধকার নেমে এসেছে শয়ে শয়ে মানুষের, শয়ে শয়ে পরিবারের জীবনে। ধীরে ধীরে ট্রেনটি এগিয়ে গেল নিজের গন্তব্যের দিকে। প্ল্যাটফর্মের ধুলোও উড়ল না! এর পর করমণ্ডলের আবার থামল ভদ্রক স্টেশনে।

আরও পড়ুন   বালেশ্বরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান মুখ্যমন্ত্রীর

শুক্রবার ওড়িশার বালাসোরের কাছে বাহানাগা বাজার স্টেশনের কাছে ঘটা ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার পরে কেটে গিয়েছে ৫ দিন। ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৮৮ জনের। আহত ১২০০-রও বেশি মানুষ। কয়েকশো দেহ এখনও মর্গে পড়ে আছে শনাক্ত না হয়ে। তারই মধ্যে বুধবার থেকেই ফের দুপুর ৩টে ২০ নাগাদ শালিমার স্টেশন থেকে ১২৮৪১ আপ করমণ্ডল এক্সপ্রেস ছাড়ে চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে। শুক্রবারের রেল দুর্ঘটনার পরেই যেমন মৃত ও আহতদের উদ্ধার করার কাজ শুরু হয়েছিল, তেমনই দ্রুত চলছিল রেললাইন সারানোর কাজও। যতক্ষণ না সারানো হচ্ছে, ততক্ষণ দক্ষিণগামী সমস্ত রুটের ট্রেন চলাচলই থেমে ছিল।

লাইন সারানোর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর রেলমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রথমে একটি মালগাড়ি চালানো হয় ওই লাইনে। এর পরে ধীরে ধীরে আরও কয়েকবার ট্রায়াল চলে। এরপরেই সোমবার থেকে চলতে শুরু করে আপ লাইনের বিভিন্ন ট্রেন। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, ফলকনামা এক্সপ্রেস-সহ ৪০টিরও বেশি ট্রেন চলাচল করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে জানা গিয়েছে,বুধবার থেকে দূরপাল্লার গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলি চালানো হবে। করমণ্ডল ছাড়াও পুরী, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ, পণ্ডীচেরি রুটের প্রায় সব ট্রেনই চলবে।

আরও পড়ুন   পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দ্বারস্থ রাজ্য

এদিকে, বালেশ্বরে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ওই দুর্ঘটনায় সরকারের কাছে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করছে রেল বোর্ড। এমনটাই জানিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেল দুর্ঘটনার পর এফআইআর দায়ের করেছে জিআরপি। তার পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার সিবিআইয়ের ১০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সিবিআইয়ের প্রতিনিধি দল দুর্ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন। দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করবেন বলেই জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে নেওয়া হবে ওই দুর্ঘটনার সময় কর্তব্যরত রেলকর্মীদের বয়ানও। রেলের হিসাব অনুযায়ী ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৮৮ জনের। যদিও ওড়িশা সরকারের হিসাব অনুযায়ী দুর্ঘটনায় মৃত ২৭৫ জন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা দ্রুত প্রকাশ্যে আনতে পারবে সিবিআই।

About Post Author