Home » সাংসদ পদ ফিরে পেলেও পুরনো বাংলোয় ফিরছেন না রাহুল গান্ধি

সাংসদ পদ ফিরে পেলেও পুরনো বাংলোয় ফিরছেন না রাহুল গান্ধি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ আগস্ট: সাংসদ পদ ফিরে পাওয়ার পরই রাহুলের সরকারি বাংলোয় প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। সংসদের সচিবালয় রাহুলকে তাঁর ১২, তুঘলক রোডের পুরনো বাড়িতে ফেরার প্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু রাহুল ওই পুরনো বাংলোয় ফিরবেন কিনা, তা নিয়েই শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার রাহুল গান্ধি জানিয়ে দিল, নিজের পুরনো বাংলোয় আর ফিরতে চান না তিনি। ২০০৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ১২ নং তুঘলক রোডের ওই বাংলোতে থাকতেন তিনি। প্রায় ১৮ বছর ওই বাড়িটিতে কাঠিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। মোদি পদবি মামলায় সাংসদ পদ খোয়ানোর পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নিজের সাংসদ পদ ফিরে পেয়েছেন রাহুল। এরপরই সংসদের সচিবালয় রাহুলকে তাঁর ১২, তুঘলক রোডের পুরনো বাড়িতে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি স্পষ্ট জানান, ছেড়ে আসা ঘরে আর ফিরতে চান না। কার্যত সেকারণেই এর আগে গত ১৬ আগস্ট বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধির সঙ্গে সফদরজং রোডের একটি বাংলো দেখতে যান রাহুল। ওই বাংলোয় একসময় থাকতেন মহারাজা রনজিৎ সিংয়ের উত্তরাধিকারীরা। সেই বাংলোতেই রাহুল গান্ধি উঠতে পারেন বলেই জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন   মণিপুর ইস্যুতে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন রাহুল গান্ধি

উল্লেখ্য,মোদি পদবী মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি মিলেছে রাহুল গান্ধির। চলতি বছরের ২৩ মার্চ মোদি পদবী নিয়ে মানহানি মামলায় সুরাট আদালত রাহুল গান্ধিকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেসময় দুই বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাহুল গান্ধি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আরএস গাভাই এবং বিচারপতি পিকে মিশ্রের বেঞ্চে রাহুল গান্ধির মামলার শুনানি হয়। শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের তরফে সেই রায়ের উপরে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এরপরই সাংসদ পদ ফেরাতে তৎপর হয়ে ওঠে রাহুল গান্ধি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কপি নিয়ে সংসদে যান রাহুল গান্ধী। এমনকী লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে যান অধীর চৌধুরী। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের পরই কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল ফোন করেন অধীর চৌধুরীকে। এরপরই তিনি স্পিকারের কাছে যান। কংগ্রেসের বাকি সদস্যরাও সংসদের গেটে ‘ভি ফর ভিকট্রি’ স্লোগান দেন। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসে নেতা কে সি বেণুগোপাল বলেন, ‘গোটা দেশ লোকসভার স্পিকারের নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এবার স্পিকারকেই যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যত শীঘ্র সম্ভব, রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদের তকমা ফিরিয়ে আনা উচিত।’

আরও পড়ুন   পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের এক মন্ত্রীকে তলব সিবিআইয়ের

উল্লেখ্য,২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্নাটকের কোলারে নির্বাচনী প্রচারে মোদী পদবি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তিনি বলেছিলেন, “সমস্ত চোরদের পদবিই মোদী হয় কেন? তা সে নীরব মোদীই হোক বা ললিত মোদী কিংবা নরেন্দ্র মোদী”। রাহুল গান্ধির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সুরাটের বিজেপি নেতা পূর্ণেশ মোদী মানহানির মামলা দায়ের করেন। গত ২৩ মার্চ গুজরাটের সুরাট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই মানহানি মামলায় রাহুল গান্ধিকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ২ বছর কারাদণ্ডের সাজা দেন। সুরাতের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল সুরাতেরই দায়রা আদালতে আবেদন করেছিলেন রাহুল। রাহুল বলেছিলেন, তিনি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাবেন। যেহেতু তিন বছরের কম কারাদণ্ডের সাজা তাই সুরাতের ওই আদালতই রাহুলের জামিন মঞ্জুর করে।

About Post Author