সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ মার্চঃ বিজেপিতে যোগদানের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন সদ্য প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই মোতাবেক বৃহস্পতিবার বেলা ১২.২০ মিনিট নাগাদ রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন তিনি। সেখানে উলু ও শঙ্খধ্বনী দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান বিজেপি নেতা- কর্মীরা। এরপর বেলা ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ এজলাস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে তিনি যোগদান করেন। তাঁর যোগদানের জন্য বিরাট আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বাসভবনে যান অগ্নিমিত্রা পাল, সজল ঘোষের মতো বিজেপি নেতারা।
আরও পড়ুন UEFA Champions League: ড্র করেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে দলে স্বাগত জানান সুকান্ত ও মঙ্গল পান্ডে। এদিন সকালেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে অভিজিৎবাবুর ফোনে কথাও হয়েছে। বিজেপিতে যোগদান করেই এদিন অভিজিৎবাবু বলেন, ‘ রাজ্যের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকদল ও সরকারকে উৎখাত করাই প্রথম লক্ষ্য। আমি দলে একজন সৈনিক হিসাবে কাজ করতে চাই। দল যে দায়িত্ব দেবে তা পালন করব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রাজনীতিতে যোগদান।’ তবে তিনি নির্বাচনে লড়বেন কিনা? আর নির্বাচনে দাঁড়ালেও কোন আসন থেকে লড়বেন, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি। তবে এদিনই বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে, এমনই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন সকাল এগারোটা নাগাদ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় হাইকোর্টে ঢোকেন। তারপরই বিচারপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এদিন সকাল ১০টা ৩৫ নাগাদ জিপিও থেকে চিঠি পাঠিয়ে ইস্তফা দেন তিনি। এমনকী রাষ্ট্রপতির কাছেও ইমেল মারফত ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই এদিন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। যদিও আগামী অগাস্ট মাসেই ছিল বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের অবসর গ্রহণের দিন। তবে তাঁর আগেই রাজনীতির ময়দানে আসার জন্য ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সোমবারই কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে তাঁর শেষ দিন ছিল। এদিকে, সোমবারই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সব মামলা তাঁর এজলাস থেকে সরানো হয়েছে। মামলাগুলি গিয়েছে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে। উল্লেখ্য, বাংলায় শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক কিছু রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তার কারণেই বাংলায় সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়ে আছে। যদিও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের জন্য শাসক দলের নিশানায় পড়েছিলেন তিনি।


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ