Home » Kanchanjunga Express: বিপর্যয় কাটিয়ে মঙ্গলবার ভোররাতে শিয়ালদহে ঢুকল ‘অভিশপ্ত’ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস

Kanchanjunga Express: বিপর্যয় কাটিয়ে মঙ্গলবার ভোররাতে শিয়ালদহে ঢুকল ‘অভিশপ্ত’ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস

সময় কলকাতা ডেস্ক: ১৮ জুনঃ সোমবার সকালে রাঙাপানি এবং নীচবাড়ি স্টেশনের মাঝে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। এখনও পর্যন্ত মালগাড়ির চালক, সহ-চালক, কাঞ্চনজঙ্ঘার গার্ড-সহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। বিপর্যয় কাটিয়ে অমঙ্গলের স্মৃতি বুকে নিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার ভোররাতে সুস্থ যাত্রীদের নিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছল অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর বিকেলে পরিস্থিতি কিছুটা আয়ত্তে এলে সুস্থ যাত্রীদের নিয়ে ট্রেনটিকে কলকাতায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত দু’টি বগিকে গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে ট্রেনটিকে প্রথমে মালদহ পাঠানো হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মালদহে সেই ট্রেনে জুড়ে দেওয়া হয় দু’টি বগি। এরপর মালদহ থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশে রওনা দেয় ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। 

আরও পড়ুন    কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাঃ মৃত অন্তত ১৫, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা,কেন এই দুর্ঘটনা? চমকে ওঠার মত তথ্য!

মঙ্গলবার ভোর ৩ টে বেজে ২০ মিনিটে ১২৯৩ জন যাত্রীকে নিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনের ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকে অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন ফিরহাদ হাকিম, স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, শিয়ালদহের ডিআরএম-সহ একাধিক আধিকারিক। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতেই একে একে নেমে পড়েন যাত্রীরা। সকলের চোখে মুখেই আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। যাত্রীদের মধ্যে একাংশই ট্রেন থেকে নেমে ভেঙে পড়লেন কান্নায়। ফিরহাদ হাকিম নিজে শিয়ালদহ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন। রাজ্যের তরফে ব্যবস্থা করা হয়েছিল স্পেশাল বাসের। ছিল অ্যাম্বুল্যান্সও। তবে, যাত্রীরা সকলেই সুস্থ ছিলেন। ফলে অ্যাম্বুল্যান্সের প্রয়োজন পড়েনি।

প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন ছেড়ে রাঙাপানি ও চাটারহাট স্টেশনের মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। মালগাড়ি ও কাঞ্চনজঙ্ঘার সংঘর্ষে একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হওয়ার পরে রেল সূত্রেই হতাহতের খবর নিশ্চিতভাবে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। ট্রেন দুর্ঘটনায় এক্স হ্যান্ডলে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-এ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর গভীরভাবে বেদনাদায়ক। শোকস্তব্ধ পরিবারের প্রতি আমার অন্তরের সমবেদনা জানাই। আমি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং উদ্ধারকার্য দ্রুত সম্পন্ন হবে সেই আশা রাখছি।’
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গতি ধীর ছিল। পিছন থেকে এসে ধাক্কা মেরেছে মালগাড়িটি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সিগন্যালিংয়ের সমস্যার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সিগন্যাল ফেল করেই মালগাড়িটি ধাক্কা মারে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে। মালগাড়ির ধাক্কায় ট্রেনের পার্সেল ভ্যান মালগাড়ির ইঞ্জিনের ছাদে উঠে যায়। পিছনের কামরাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। জানা গিয়েছে, যে কামরাটি দুমড়ে গিয়েছে, সেটি অসংরক্ষিত কামরা ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল তাতে। প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাই বগি কেটে ভিতর থেকে আহত এবং মৃত অবস্থায় যাত্রীদের উদ্ধার করে।

#KanchanjungaExpress

#Latestbengalinews

About Post Author