সানী রায়, সময় কলকাতা , ১ জুলাই :পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন বটবৃক্ষের মতো শান্তির আস্তানা , বুড়িখোলা গ্রাম আর এই গ্রামটি সম্পূর্ণভাবে ঘেরা রয়েছে পাহাড় জঙ্গল এবং বয়ে যাওয়া বুড়িখোলা নদী। সকাল এবং সন্ধ্যেবেলায় ময়ূরের ডাক পাশাপাশি সন্ধ্যা হতেই বিভিন্ন প্রকারের ঝিঁঝিপোকার আওয়াজ ।
আরও পড়ুন বাঙালি পর্যটকদের জন্য : গরমে কাছেই ঝান্ডি ঘুরে আসুন, স্বস্তি মিলবে
রয়েছে বন্যপ্রাণী হাতি , হরিণ সহ বিভিন্ন প্রাণীর ডাক । মাঝে মাঝে কান পাতলে শোনা যায় দুই দাঁতালির লড়াইয়ে হাতির দাঁতের সাথে দাঁতের সংঘর্ষের শব্দ ।মালবাজার থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার পেরিয়ে এলেই , এই গ্রামটি চোখে পড়বে ।

আসার সময় সুনগাছি চা বাগানের সবুজ গালিচা সহ চা পাতা তৈরির গন্ধ এবং পাশাপাশি জঙ্গলে প্রবেশ করার সাথে সাথে বন্যপ্রাণীর উঁকি ঝুঁকি মারা এক অদ্ভুত অনুভূতি ।কারণ পাশেই রয়েছে শাখাম জঙ্গল । যেটি হল হাতির আঁতুঘর ।
এই আতুর ঘরেই নতুন সন্তানের জন্ম দেয় এই বিশাল প্রাণী । তারপর মা তার সন্তানকে দু’বছর সাথে নিয়ে বিভিন্ন স্থান পরিক্রমা করিয়ে পথ চলার করিডর কে চিনিয়ে দেয় মা তার শিশুকে । বন্যপ্রাণীর বিষয় নিয়ে চর্চার পরে বলতেই হয় মানুষের কথা। প্রকৃতির সেরা প্রাণী মানুষ আর এই ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ঘুরার নতুন জায়গা মানচিত্রে এলে সর্বদাই খুশি থাকে পর্যটকরা ।
শাল গাছের তলায় বিশাল হোমস্টে যার নাম বুড়িখোলা হোমস্টে ।
রাতের অন্ধকারে এই অঞ্চলটি একেবারেই বন্যপ্রাণীর স্বর্গরাজ্য । প্রত্যন্ত ঘন জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত এই গ্রাম। আর এই গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে ভুট্টা বাড়ি জঙ্গল । দুটোই জঙ্গল সুরক্ষিত এবং বন্যপ্রাণের জন্য এক স্বর্গরাজ্য ।
সচরাচর স্থানীয় শহর এলাকার মানুষ এই এলাকায় আসতে লাগত সাহস। এখন আর ভয়ভীতির প্রশ্ন নেই। জঙ্গলের মাঝখানে গড়ে তুলেছে পর্যটকদের জন্য এক নতুন আস্তানা ।

অবশ্যই প্রকৃতিকে সাথে রেখে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে । রয়েছে ঘন শালবন , শিশুদের জন্য দোলনা , তরুণ তরুণীদের জন্য সেলফি পয়েন্ট এবং যারা নদীতে স্নান করতে ভয় পান , তাদের জন্য রয়েছে ছোট্ট একটি বাথ টব।সবমিলিয়ে এক সুন্দর অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের সাক্ষী হতে হলে চলে আসুন বুড়িখোলা গ্রামে ।
আরও পড়ুন তাগদা আর লেপচাজগৎ : অন্য দার্জিলিং


More Stories
রূপের মধ্যে অরূপের ছোঁয়া : গাজলডোবা এক ব্রাত্য মুগ্ধতা
কলকাতা-হিমাচল সরাসরি ট্রেন চালু, বাংলা পর্যটকদের জন্য নতুন সুবিধা
মরিচা ঝিল, বর্তির বিল : প্রশাসনিক উদ্যোগে পর্যটন শিল্পে আমডাঙার স্বপ্নপূরণ