সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ জুলাইঃ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে বাংলাদেশ। কোটাবিরোধী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে গত কয়েকদিন ধরেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বাংলাদেশের। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আন্দোলনের জয়ের পরেই শিথিল করা হয়েছে কার্ফু। জানা গিয়েছে, আজ, বুধবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস চার ঘণ্টার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই সেখানে সীমিত ভাবে চালু করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। তবে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে সেনা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, সেখানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার কারণেই কার্ফু শিথিল করার সঙ্গেই কিছু সময়ের জন্য অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু জায়গায় ইন্টারনেট চালু করা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এখনও বন্ধ ট্রেন চলাচল।
আরও পড়ুন নতুন করে আর NEET- UG পরীক্ষা নেওয়া হবে না, জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট
প্রসঙ্গত, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে চলছে কোটা সংস্কার আন্দোলন। এই আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি মন্তব্য করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন একাংশের শিক্ষার্থীরা। সেই থেকেই মূলত আন্দোলন ভয়াবহ আকার নেয়। ক্যাম্পাসের মধ্যেই আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর ছাত্রলিগের সদস্যরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামি লিগেরই ছাত্র শাখা হল ছাত্রলিগ। এদিন সেই সংঘর্ষ আরও বড় আকার নেয়। সব মিলিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ১৯৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকশো মানুষ।
এদিকে, কোটাবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনার পর আন্দোলনকারী ছাত্রীদের তোপের মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের নেত্রীরা৷ মঙ্গলবার রাতে তাদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ৷ বাংলাদেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষের ঘটনার পরে দু’সপ্তাহ ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশজুড়ে থমথমে পরিবেশ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়। এদিকে, গত বৃহস্পতিবার কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। শুধু হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ ছিল। বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। জাতীয় সড়কগুলিতে আটকে ছিল হাজার হাজার যানবাহন। রাজধানী ঢাকার রাস্তাতেও পুলিশের গাড়ি আর অ্যাম্বুল্যান্স ছাড়া অন্য যানবাহনের দেখা মেলেনি।
#SituationIsGettingNormalInBangladesh
#Latestbengalinews


More Stories
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক
সীমান্ত সমস্যা সমাধানে শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত দ্রুত পদক্ষেপে কোন বার্তা?
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস : বাংলাদেশে পালাবদল ও বিতর্ক