সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ সেপ্টেম্বরঃ আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গত সোমবারই গ্রেফতার হয়েছেন আরজিকরের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। গ্রেফতারির পরেই আরজিকরের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সাধারণ সদস্যপদ খারিজ করেছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন। সেইসঙ্গে সন্দীপ ঘোষকে সাসপেন্ড করেছিল স্বাস্থ্য দফতর। কেন তাঁর ডাক্তারির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে না? এবার এই প্রশ্ন তুলে সন্দীপকে শোকজ করল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল।
জানা গিয়েছে, তাঁর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে যতদিন পর্যন্ত আরজিকর হাসপাতালের দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ক্লিনচিট পান। সন্দীপের পাশাপাশি সাসপেন্ড করা হয়েছে সন্দীপ ঘনিষ্ঠ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসক মুস্তাফিজুর রহমান মল্লিক, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক বিরূপাক্ষ এবং প্রাক্তন আরএমও অভীক দে-কেও। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল শনিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত কাউন্সিলের কোনও মিটিংয়ে থাকতে পারবেন না তাঁরা। কাউন্সিলের তরফে শুক্রবারই সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে শোকজ়ের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই হাসপাতালের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। আরজিকর হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি-সিবিআই। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই আরজিকরে দুর্নীতির তদন্তে এফআইআর করে সিবিআই। জোরকদমে শুরু হয়ে যায় তল্লাশি। সেই সূত্রেই আদালতের নির্দেশে শহরজুড়ে অভিযানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবন ও কলেজ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই ফুড স্টল, কাফে, ক্যান্টিন, সুলভ কমপ্লেক্স তৈরির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। তিনজন বিশেষ ব্যবসায়ীই এই প্রত্যেকটি ‘বেআইনি’ টেন্ডার পান। তাঁদের একেকজনকে কয়েক কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়। ফিনান্স ও অ্যাকাউন্ট অফিসারদের কিছু না জানিয়েই এই বরাতগুলি দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজ করানো হয় পূর্ত দফতরকে না জানিয়েই। ডাক্তারি শিক্ষার তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, পুরসভার বদলে হাসপাতালের কর্তারা পার্কিং থেকে টাকা আদায় করে তা সরিয়ে দেন। চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে।

এক স্বাস্থ্যকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাহিদামতো রদবদলেরও অভিযোগ উঠেছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকেও কুড়ি শতাংশ টাকা তোলা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, ভেন্ডারদের সাহায্যে এক স্বাস্থ্যকর্তার বাগানবাড়ি সাজানো হত। তা না করলে তাঁরা হুমকির মুখে পড়তেন এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে। একদিন অন্তর হাসপাতালের ব্যবহার হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রবার গ্লাভস, হ্যান্ড গ্লাভস মিলিয়ে কয়েকশো বর্জ্য বের হতো। তাতেও নাকি দুর্নীতি করতেন সন্দীপ। একটা ব়্যাকেট বানিয়ে ফেলেছিলেন, তাতে যুক্ত ছিলেন দু’জন বাংলাদেশিও। এসব দুর্নীতির নথিই দ্রুত সংগ্রহ করতে চাইছে ইডি এবং সিবিআই। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তারও পর্দাফাঁস করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
#Statemedicalcouncil
#RGkarHospital
#RGkarPrincipalSandeepGhosh
#RGKARDoctorDeath
#Latestbengalinews
#RGKarHospitalfinancialcorruptioncase


More Stories
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ
আরজিকরের তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, নেপথ্যে কোন রহস্য ?
নাটকীয় দৃশ্য। সেনার ট্রাক আটকাল কলকাতা পুলিশ !