সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর: কলকাতার নতুন সিপি মনোজ বর্মাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপির ব্যারাকপুর লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের। ব্যারাকপুরের আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সাবধান করেছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বিনীতের থেকেও আরও ভয়ংকর মনোজ বর্মা। আরজিকর কাণ্ড প্রসঙ্গে এদিন আন্দোলনরত জুনিয়ার চিকিৎসকদের দাবী মেনে বিনীত গোয়েলকে অপসারণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্থানে দায়িত্ত্বার পেয়েছেন আইপিএস অফিসার মনোজ বর্মা। তবে সেও বিনীত গোয়েলের থেকে কিছু কম নয়, বলে নতুন নির্বাচিত সিপিকে কটাক্ষ অর্জুনের।
আরও পড়ুন আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে সুদীপ্ত রায়ের বাড়িতে ২০ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি
মঙ্গলবার বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে কলকাতার নতুন সিপি করা হয়েছে মনোজ বর্মাকে। তিনি ১৯৯৮ সালের ব্যাচের আইপিএস। অতীতে এই মনোজই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারের পদে নিয়োজিত ছিলেন। কার্যত সেই কেন্দ্রের প্রাক্তন সংসদের কাছে মনোজ সম্পর্কে রয়েছে একগুচ্ছ অভিজ্ঞতা। তার ভিত্তিতেই এদিন কলকাতার বর্তমান পুলিশ সুপারকে ‘অদ্ভুত চরিত্র’ বলে দাবি করেছেন অর্জুন সিং। জুনিয়ার ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে তাঁর হুঁশিয়ারি, “তোমরা ভাবতেও পারবে না মনোজ বর্মা কী রোড রোলার চালাবেন। চার বছরতো ব্যারাকপুর ছিলেন। তখন থেকে সমস্ত অপরাধীকে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছেন। তাদের কেউ আজ কাউন্সিলর, আবার কেউ বিধায়ক। এরা সবই মনোজ বর্মার প্রোডাক্ট। সিপিএম জমানায় তৃণমূলকে খুন করাতেন জঙ্গলমহলে। তিনিই ২০১৯ সালে ব্যারাকপুরে এসে তৃণমূলের কোথায় আবার নিরীহ মানুষদের প্রাণে মেরেছেন। বিভিন্ন উপায়ে ভয় দেখিয়েছেন তৃণমূল বিরোধীদের। তৃণমূল দাবি করে ব্যারাকপুর শান্ত রেখেছিলেন উনি। কিন্তু তা মিথ্যে। মনোজ অপরাধীদের বাঁচিয়েছেন।’’

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন এই মনোজ বর্মা। তখন রাজ্যে সিপিএম সরকার। সেই সময় সমগ্র জঙ্গলমহল মাওবাদীদের কার্যকলাপে আতঙ্কিত। সেই পরিস্থিতীতে দাঁড়িয়ে মাওবাদী আগ্রাসন অনেকাংশেই রুখে দিয়েছিলেন কলকাতার বর্তমান সিপি। এমনকি মাওবাদী নেতা কিষেণজির এনকাউন্টারের সময়ও বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এরপরে একাধিকবার পদ ও কর্মস্থল বদল হয়েছে আইপিএসের। জঙ্গলমহলের পর তিনি চলে যান শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে। সেখানে ডিআইজি পদমর্যাদায় উন্নীত হন। তারপর দার্জিলিঙের আইজি হয়েছিলেন ২০১৭ সালে। সেই মনোজকেই মমতা সরকার ২০১৯ সালে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার করে এনেছিলেন। রাজ্য সরকারের দাবি তৎকালীন ব্যারাকপুরের ভাঁটপাড়া, কাকিনাড়া ছিল বোমা, গুলি ও খুন-খারাবির ঘাঁটি। সেই পরিস্থিতেকেও স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মনোজ বর্মা। সেভাবেই তৃণমূল সকারের কথায় অশান্ত কলকাতাকেও শান্ত করে দেবেন মনোজ, জুনিয়ার চিকিসৎসকদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্জুন সিংহ।
#VineetGoel #ArjunSingh #ManojVerma #Latestbengalinews


More Stories
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ
আরজিকরের তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, নেপথ্যে কোন রহস্য ?
নাটকীয় দৃশ্য। সেনার ট্রাক আটকাল কলকাতা পুলিশ !