সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ নিম্নচাপের জেরে বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ফের ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাজ্যের একাধিক অঞ্চল। ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের ৯ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যে। বর্ষার তাণ্ডবলীলায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। জলমগ্ন দুর্গাপুর, আসানসোল, বীরভূম , হাওড়া, হুগলি, আরামবাগ, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। ডিভিসির মূল দুটি জলাধার মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধের উপর জলের চাপ ক্রমশ বেড়েছে। জলের চাপ বাড়ার কারণে প্রায় রোজই জল ছাড়ছে ডিভিসি। ডিভিসি-র দুই জলাধার থেকে জল ছাড়া নিয়ে শুরু হয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর। এসবের মাঝেই নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টির মধ্যেই ফের মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াল ডিভিসি। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ১ হাজার কিউসেক বেশি জল ছেড়েছে দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি। ডিভিসির ছাড়া জলে ভাসছে কার্যত দক্ষিণবঙ্গ।

আরও পড়ুন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ জহরের
এর আগে গত শুক্রবারই বাংলার বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসিকে দুষে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ‘ম্যান মেড বন্যা’। তাঁর দাবি, ডিভিসি আরেকটু সতর্ক হলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। এরপর ডিভিসি-র বোর্ড এবং ডিভিআরআরসি থেকে ইস্তফাও দেন রাজ্যের দুই শীর্ষ আধিকারিক।


উল্লেখ্য, রাজ্যের বন্যা পরিস্থতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ‘ম্যান মেড বন্যা’। তাঁর দাবি, ডিভিসি আরেকটু সতর্ক হলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। পরিসংখ্যান দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ডিভিসি অপরিকল্পিতভাবে একক সিদ্ধান্তে মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে ৫ লক্ষ কিউসেক জল ছেড়েছে। যার ফলে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলা, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জলের তলায়। দ্রুত নদীগুলির ড্রেজিং করানোর আবেদনও জানিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে পালটা চিঠি লিখে কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রক সাফ জানান, একতরফাভাবে নয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের জানিয়েই জল ছেড়েছে ডিভিসি। দোষারোপ নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা কাম্য। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিল চিঠি লিখে বোঝান, যা যা অভিযোগ মমতা তুলছেন, তা সঠিক নয়। ঝাড়খণ্ড-বাংলার মধ্যে যেসব জলাধার রয়েছে, সেখান থেকে জল কখন কীভাবে ছাড়া হবে, তা ‘দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি’ নামক একটি কমিটির দ্বারা পরিচালিত হয়। সেই কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা সরকারের ইঞ্জিনিয়াররা রয়েছেন। এই কমিটির সম্মতি নিয়েই জল ছাড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রকের দাবি, যে পরিমাণ জল ছাড়ার পরিকল্পনা হয়েছিল, রাজ্যের অনুরোধে তার থেকে ৫০ শতাংশ কম জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
#DVCReleasesWater #MaithonandPanchetDam # Latestbengalinews #DVC #FloodSituationinBengal #PMNarendraModi #FloodSituationin Bengal


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
আইনশৃঙ্খলার পাঠ : বিহারের কাছে কি পশ্চিমবঙ্গকে শিখতে হবে ?