স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১ অক্টোবরঃ কানপুরে নয়া নজির ভারতের। পাঁচ দিনের টেস্ট দুই দিনেরও কম সময়ের ব্যবধানে জিতে নিল ভারত। বোলিং ও ব্যাটিং দুই বিভাগেই দাপট দেখালেন রোহিত শর্মারা। শেষ পর্যন্ত ভারত জিতল ৭ উইকেটে।

দ্বিতীয় টেস্টে বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। প্রথম দিনে নির্ধারিত সময়ের একঘন্টা পর খেলা শুরু হয়। টসে জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। কিন্তু তিন ঘন্টার বেশি সময় মাঠে বল গড়ায়নি। ৩৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর যখন ১০৭ রান, তখন ফের বৃষ্টি নামে। তারপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে একটিও বল খেলা হয়নি। চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নেমে ১২৬ রান তোলে বাংলাদেশ। ৭৪.২ ওভারে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ২৩৩ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন রোহিত-যশস্বীরা। দুটি ছয় মেরে নিজেদের ইনিংস শুরু করেন ভারত অধিনায়ক। প্রথম ওভারে তিনটি চার আসে যশস্বীর ব্যাট থেকে। শুরুটা দেখেই মনে হচ্ছিল ম্যাচ জেতার লক্ষ্যে নেমেছে গৌতম গম্ভীরের দল। তবে শুধু দুই ওপেনার নয় প্রায় সব ব্যাটারই চালিয়ে খেললেন এ দিন। আইপিএল চলছে না টেস্টে সেটাই বুঝতে পারছিলেন না বাংলাদেশ বোলাররা। ১১ বলে ২৩ রান করে আউট হন রোহিত। ৩৫ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন বিরাট। মাত্র তিন রানের জন্য বহুপ্রতীক্ষীত অর্ধশতরান মিস করেন তিনি। ৫১ বলে ৭২ রান করেন যশস্বী। যা ভারতের ইনিংসে সর্বাধিক। শেষর দিকে লোকেশ রাহুল করেন ৪৩ বলে ৬৮ রান। প্রথম ইনিংসে ৫২ রানে এগিয়ে ছিল ভারত। তখন ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন রোহিত শর্মা।
আরও পড়ুনঃ Cristiano Ronaldo: বাবার জন্মবার্ষিকীতে গোল উপহার পুত্র রোনাল্ডোর
চতুর্থ দিনের শেষে জোড়া উইকেট তুলে বাংলাদেশ শিবিরকে জোর ধাক্কা দেন রবিচন্দ্র অশ্বিন। ৮ উইকেট নিয়ে পঞ্চম দিনে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই পড়শি দেশের ইনিংসকে ধাক্কা দেন সেই অশ্বিন। প্রথম ইনিংসে শতরান করা মোমিনুল হককে ২ রানে সাজঘরে ফেরান। তারপর ওপেনার শাদমানের সঙ্গে দলের কিছুটা হাল ধধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ১৯ রানের মাথায় শান্তকে ফিরিয়ে দেন জাদেজা। পরের ওভারেই আকাশ দীপের বলে সাদমান আউট হতেই মনে হচ্ছিল ম্যাচ গড়াবে ফয়সলার দিকে। শেষের দিকে কিছুটা লড়াই করছিলেন মুস্তাফিজুর রহিম। বাংলাদেশের অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যাটারের ব্যাট থেকে আসে ৩৭ রান। বাংলাদেশের বাকি ব্যাটাররা অশ্বিন-বুমরাদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। যশপ্রীত বুমরা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা তিনটি করে উইকেট নেন। ভারতের সামনে মাত্র ৯৫ রানের লক্ষ্য রাখে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরু থেকে দাপুটে ব্যাটিং করেন যশস্বী জয়সওয়াল। রোহিত শর্মা ও শুভমন গিলের ব্যাটিং ব্যর্থা ঢেকে দেন ভারতীয় ওপেনার। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও অর্ধশতরান করেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান। শেষের দিকে যশস্বী ফিরলে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান বিরাট। ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১৭.২ ওভারে ৯৫ রান তুলে ম্যাচ ও সিরিজ জিতে নেয় ভারত। ম্যাচের সেরা যশস্বী। সিরিজের সেরা অশ্বিন।


More Stories
সিরিজ জিতল পাকিস্তান
পাকিস্তান বধ, সমতায় অজিবাহিনী
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের