সময় কলকাতা ডেস্ক:- একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি লড়াই দেখেছিল বাংলা। বছর ঘুরতেই ছাব্বিশে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে বাংলায়। এবার কি সেই নন্দীগ্রামের জায়গা নিতে চলেছে ভবানীপুর কেন্দ্র ? শুভেন্দু অধিকারীর একের পর এক হুঁশিয়ারি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। কারণ এই ভবানীপুর কেন্দ্রই হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের এখনও ১ বছর বাকি।
কিন্তু, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের কর্মিসভায় ভূতুড়ে ভোটার কার্ডের প্রসঙ্গ উঠতেই যেন ভোটের বাদ্যি বেজেই গিয়েছে। এপিক কার্ড-কাণ্ডে শাসক-বিরোধী তর্জা তুঙ্গে। এসবের মাঝেই যা সমান পরিমাণে শিরোনামে থেকে গিয়েছে তা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। কারণ, ছাব্বিশের আগে বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী রীতিমতো পণ নিয়ে নিয়েছেন তিনি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমোকে ছাব্বিশের নির্বাচনে হারাবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ
ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। থেমে নেই শাসকশিবিরও। বুধবার দোল এবং হোলির মিলন উত্সবে তারই এক ঝলক নজরে আসে। ধনধান্য অডিটোরিয়ামে প্রাক দোলের উৎসবে গুজরাটি-পাঞ্জাবিদের সঙ্গে ডান্ডিয়া-ভাঙড়া নাচেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সবাই যে যার ধর্ম পালন করুন। বাংলায় সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বাস করেন। সকলেই শান্তি চান।
একদিকে হিন্দু-হিন্দু-হিন্দু রব তুলে ক্রমাগত মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে চলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে, সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটের এখনও বছরখানেক বাকি। তবে খাস কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের লড়াইয়ের জন্য তাল ঠোকা শুরু হয়ে গেল শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির। সলতে পাকানো শুরু করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভার ৮ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫ টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে
এই অবস্থায় হিন্দিভাষীদের ভোট ধরতে সক্রিয় তৃণমূল। যে কারণে পুরসভার ভাঁড়ার থেকে লক্ষাধিক টাকা ব্যায় করে প্রাক হোলির উৎসব পালিত হচ্ছে। ভবানীপুর বরাবরই অবাঙালি অধ্যুষিত। গুজরাটি ভোটারদের রমরমা। সেখানে প্রায় ৪২ শতাংশ বাঙালি হিন্দু ভোটার রয়েছেন। আর ৩৪ শতাংশ অবাঙালি হিন্দু ভোট আছে। ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের নিরিখে ওয়ার্ড ভিত্তিক ফলের উপর নজর দিলে দেখা যাবে, ভবানীপুর বিধানসভার ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে লিড পেয়েছে বিজেপি। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে অনেকেই মনে করছে, ভবানীপুর নিয়ে যখন শুভেন্দু গর্জে উঠছেন, তখন অবাঙালি ভোটকে কাছে টানাই এই অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ ছিল তৃণমূলের। বুধবার মঞ্চে যখন মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন, সেই সময় তাঁর চারপাশে বেশিরভাগই অবাঙলি, মারওয়াড়ি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন।
এখানেই মনে করা হচ্ছে, সামনের নির্বাচনে হটস্পট হয়ে উঠতে চলেছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। ঠিক যেমন একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সবথেকে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল নন্দীগ্রাম, কারণে সেখানেই সম্মুখ সমরে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেখানকার ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়নি। প্রার্থীও ঠিক হয়নি।
তাহলে কেন ভবানীপুর হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল ? উত্তর মিলবে বুধবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যেই। যদিও শুভেন্দু অধিকারীর এই চ্যালেঞ্জের পাল্টা দিতে সময় নেননি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তবে কুণালের নিশানায় শুধু শুভেন্দুই ছিলেন না, ছিল গোটা বঙ্গ বিজেপি ব্রিগেডই।
বাঘ মারতে শক্র পাঠানোর কৌশল
নন্দীগ্রামে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে মমতা ও শুভেন্দুর সরাসরি লড়াই দেখেছিল বাংলা। ভোটের কয়েক মাস আগে শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তাঁর পুরনো সতীর্থের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে নিজে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মমতা। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দুই। পরে ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার শুভেন্দু হুঙ্কার দিচ্ছেন, ভবানীপুরেও মমতাকে হারিয়ে দেখাবেন! বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও বলে দিয়েছেন, শুভেন্দু দলের কাছে ভবানীপুরে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিলে তাঁরা স্বাগত জানাবেন।
বিজেপি সভাপতির এই কৌশলকে বাঘ মারতে শক্র পাঠানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন অনেকে! জল্পনা শুরু হয়েছে, তা হলে কি নন্দীগ্রামের যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্ব ভবানীপুরে হবে? চর্চা তুঙ্গে এবং তা নিঃসন্দেহে জিউয়ে থাকবে ছাব্বিশের নির্বাচন ঘোষণা এবং প্রার্থী তালিকা ঘোষণা পর্যন্ত।


More Stories
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!
স্যুটকেশ রহস্য! দিলীপ একসূত্রে বাঁধলেন “আম্মা” ও অভিষেককে
শাবকহারা উদ্বিগ্ন-উন্মত্ত মা গন্ডারের মৃত্যু ফালাকাটায়