সময় কলকাতা ডেস্কঃ দক্ষিন দিনাজপুরের বালুরঘাট শহরে ঢোকার করার মুখেই ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত রঘুনাথপুর এলাকা। ‘রঘুনাথপুর’ ছয় অক্ষরের এই নামেই রয়েছে বিশেষ মাহাত্ন।এক ডাকেই দক্ষিন দিনাজপুর জেলার মানুষ এই জায়গাটিকে চেনে।এখানেই আত্রেয়ী নদীর গা ঘেঁষে অবস্থিত রঘুনাথের মন্দির।রাম সীতা লক্ষণ আর পবন পুত্রের মুর্তির মন্দির এটি।শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরে নিত্য দিনের পূজোর আয়োজন করা হয়।পাশাপাশি রামনবমীর দিন খুব নিষ্ঠার সাঙ্গে বাসৎরিক পুজোও হয়।এই দিনে জাগ্রত রঘুনাথ মন্দিরে ভক্তরা তাদের মনস্কামনা জানিয়ে বাবা রঘুনাথের নিকট পুজো দেয়।প্রার্থনা জানিয়ে পুজো দেওয়ার পর ভক্তদের মনস্কামনা পুরন হয়ে থাকে বলেই লোকমতে প্রচলিত।

প্রসঙ্গত,আগে রাস্তা থেকেই দেখা যেত প্রাচীন এই মন্দিরের কুটির।কিন্তু কালের নিয়মে মন্দির প্রাঙ্গনের জায়গা ছেড়ে তার আশেপাশে জনবসতি গড়ে ওঠে।আজকাল তাই রাস্তা থেকে আর মন্দির দেখা যায়না ।রবিবার অর্থাৎ রামনবমীর দিন ভোর হতে না হতেই দুরদুরান্ত থেকে ভক্তরা রঘুনাথ শীউজির পুজো দিতে রঘুনাথ মন্দিরে ভীড় জমান।এদিন বাবা রঘুনাথের পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে বসে মেলা।পাশাপাশি প্রচুর ভক্তদের সমাগমে উপচে পরে মেলা ও মন্দির প্রাঙ্গন।

উল্লেখ্য,গত দু বছর করোনা বিধি নিষেধের গেরোয় তেমন ভাবে পুজো জাঁকজমকভাবে হয়নি। বছরে এই দিনটিতে বাবা রঘুনাথের দর্শন ছাড়তে চায়না ভক্তরা।এবছর ভক্তদের উপস্থিতি কম ছিল না।তবে করোনা অতিমারির কারণে প্রথম দফায় মেলা না বসলেও দ্বীতিয় দফায় গতবছর ছোটখাট মেলা বসে ছিল।আর এবার তো করোনা বিধি উঠে যাওয়ায় রবিবার ভোর থেকেই ভক্তদের ঢল নেমেছে মন্দিরে।

ভোর হতেই আত্রেয়ী নদীতে স্নান সেরে ভক্তজনদের পুজো দেবার জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ে মন্দির প্রাঙ্গণে।এই পুজোয় খাজা বাতাসা বা সন্দেশ ভোগ ছাড়াও ডাব দিয়ে পুজো দেওয়ার একটা চল রয়েছে।কথিত রয়েছে,বাবা রঘুনাথের কাছে এক অন্ধ ব্যক্তি হত্যে দিয়ে পড়ে থেকে বাবা রঘুনাথের কৃপায় নিজের চোখের জ্যোতি ফিরে পেয়েছিলেন।এছাড়াও ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে নানা ব্যাধির থেকেও আরোগ্য লাভ করেছেন অনেক ভক্তজন।পুজো দেওয়ার পর মনোবাঞ্চা পূরণ হওয়ার পর ফের তাঁরা পুজো দিতে আসেন।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?