সময় কলকাতা ডেস্কঃ কথায় বলে সবুরে মেওয়া ফলে। ধৈর্যের অপর নাম সাফল্য।এবার কি সেই সাফল্যের মুখ দেখতে চলেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব? কারণ রাজ্যের দক্ষিণ পশ্চিম পুর্ব সব জায়গাতেই তৃণমূল তাদের আধিপত্যের প্রমাণ রেখেছে। কিন্তু সেই তুলনায় উত্তরবঙ্গ ছিল তৃণমূলের কাছে অধরা। বাম আমল থেকেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে চলছিল অশান্তির আবহ। উঠে আসছিল সুবাস ঘিসিং-এর আলাদা রাজ্যের দাবিও। তারপর ২০১১ সালে মমতার দল ক্ষমতায় আসার পর মূলত তারই প্রচেষ্টায় পাহাড়ে কিছুটা হলেও শান্তি ফিরে আসে।
কিন্তু ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে গোর্খা জনমুক্তির দার্জিলিং-কে পৃথক রাজ্যের দাবিকে মেনে নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন দার্জিলিং-এর বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হন বিজেপি সাংসদ। তারপর থেকেই আবার অশান্ত হয় পাহাড়।কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিং-কে পৃথক রাজ্যের দাবিকে পাত্তা না দিয়ে ২০১২ সালের অগস্ট মাসে ডিজিএইচসি-র পরিবর্তে দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে জিটিএ গঠিত হয়। গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ গঠন করে মাস্টার স্ট্রো্ক চাল দিয়ে অশান্ত পাহাড়কে শান্ত করেন। তারপর জল গড়ায় অনেক দূর পর্যন্ত। ২০১৭ সালে এক পুলিশ কর্মীকে খুনের অভিযোগে গোর্খা জনমুক্তি প্রধান বিমল গুরুং যখন অশান্ত পাহাড় ছেড়ে অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন, তখনই বিনয়-অনীত জুটিকে নিয়ে শান্তি ফিরিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাহাড়ে শান্তি স্থাপনের পর রাজনৈতিক সমীকরণও বদলে গিয়েছে। বিশেষ করে একুশের নির্বাচনের পর পাহাড়ে নতুন দুটি দলের আবির্ভাব ঘটেছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ছেড়ে অনীত থাপা নতুন দল গড়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল বিজিপিএম অর্থাৎ ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা এবার জিটিএ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে।

জিটিএ-তে বিজিপিএম প্রধান অনীত থাপাকে বাইরে থেকে সমর্থন করবে তৃণমূল। তেমনই আভাস মিলেছে।কারন গত সপ্তাহেই বিজিপিএম প্রধান অনীত থাপা নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে যান শপথগ্রহন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য। আর সেই উদ্দেশ্যেই সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১২ জুলাই অর্থাৎ মঙ্গলবার জিটিএর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে শপথ নেবেন অনীত থাপা। ওইদিনই বিজিপিএমের বিজয়ী সদস্যরাও শপথ নেবেন। পাশাপাশি অনীত থাপা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত থাকতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার বার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার উদ্দেশ্য একটাই তা হল ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে হারানো জমি ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টা। তবে এবার দেখার উত্তরবঙ্গে পদ্মফুলের বাগানকে উপড়ে ফেলে ঘাস ফুল ফোটাতে পারে কিনা মমতা এন্ড কোম্পানি।


More Stories
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের
আরজিকর কাণ্ডে গ্রেফতার নির্মল ঘোষ
নেতাজির অবমাননায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর