সময় কলকাতা ডেস্ক: ঐতিহাসিক গুডউইনের ভাষায়, বাস্তিল দুর্গের পতনের মতো আর কোনও ঘটনা ফরাসি বিপ্লবে এতখানি বহুমুখী ও সুদূঢ়প্রসারী প্রভাব ফেলেনি। ১৪ জুলাই প্যারিসের জনতা বাস্তিল দুর্গ ও রাজবন্দীদের একটি পুরনো কয়েদখানা ধ্বংস করে দেয়। দিনটি ফ্রান্সের ইতিহাসে বাস্তিল দিবস হিসেবে পরিচিত।
বাস্তিল ছিল প্যারিসের পূর্বপ্রান্তে একটি প্রাচীন দুর্গ। এখানে রাজবন্দীদেরও বন্দী করে রাখা হত। গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, বাস্তিল দুর্গ ও পাশের হোটেল ‘দ্যা ইনভেলিডস’-এ প্রচুর গোলাবারুদ জমা করা হয়েছে এবং জনগণের উপর হামলা করাই হচ্ছে এসব গোলাবারুদ জমা করার লক্ষ্য।

বাস্তিল দুর্গের দেওয়াল ছিল ১০ ফুট এবং গম্বুজ ছিল ৯০ ফুটের বেশি উঁচু। এ দুর্গে ছিল ৪২ জন ‘ইনভেলিডস’, ২ জন ‘ক্যানিয়ার্স; ও ৩২ জন সুইস সৈন্য। এছাড়া ছিল ১৫টি কামান, ৬শ’ গাদাবন্ধুক, ১৫ হাজার কার্তুজ ও ১২ জন গাদা বন্দুকধারী সৈন্য। আরও ছিল ২০ হাজার গান পাউডার। বাস্তিল দুর্গে ঐ সময় রাজবন্দী ছিল মাত্র ৯ জন।
১৪ জুলাই দুর্গে থাকা ফরাসী সৈন্য বিক্ষোভকারীদের কাছে মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল। বিপ্লবী জনতা গভর্নর দ্যা লুনের মাথা কেটে ফেলে এবং প্যারিসের রাজপথে তারা মাথা প্রদর্শন করে। বাস্তিল দুর্গটি ছিল স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের প্রতীক। বিনা বিচারে ধরে আনা ব্যক্তিদের এই বিশাল দুর্গে বন্দী রেখে রাজা ও অভিজাতরা তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব জাহির করতেন। এই দুর্গের পতন রাজতন্ত্র ও অভিজাতদের বিরুদ্ধে জনগণের উল্লেখযোগ্য রায় বলে মনে করা হয়।

ফ্রান্সের ইতিহাসে ১৪ জুলাই তাই জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাস্তিলের পতনের পর সম্রাট ষোড়শ লুই জাতীয় পরিষদকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হন। তারপর সম্রাট প্যারিস থেকে সৈন্য অপসারণ করে নেন।


More Stories
কেক কেটে ঈদ উদযাপন
রবীন্দ্র জন্মদিন : মোদি ও মমতার কবিগুরু স্মরণ
রবীন্দ্রনাথের পরলোক চেতনা ও প্রেতচৰ্চা