সময় কলকাতা ডেস্কঃ অর্থমনর্থম রহস্যের জট ছাড়াতে ডায়মন্ড সিটির ফ্ল্যাট থেকে ইডি-র পথ চলা শুরু হয়েছিল। গাড়ি ঘুরে গিয়েছিল বেলঘরিয়ার রথতলার দিকেও। এরপর ইডির গাড়ি গোটা রাজ্যজুড়ে শুরু করেছে খোঁজ খবর। হাওড়ার ডোমজুর, জাঙ্গিপাড়া, বারুইপুর, খোয়াইয়ের হাট – পার্থ অর্পিতার বিশ্রামের আস্তানা ঠিকানা বহু জায়গায় ছড়িয়ে।খোঁজ মিলেছে অনেক কিছুর: এই অর্থ, এই বিত্ত, এই ভুসম্পত্তির গভীরে কোন রসায়ন কাজ করছে তার গভীরে ঢোকার আগে বোঝা দরকার সার্বিক চিত্র।’যখের ধন’ প্রাপ্তি পার্থ- অর্পিতার জীবনকে তো বটেই রাজ্য রাজনীতিকে উথাল-পাতাল করে দিয়েছে। ‘যখের ধন’ মিলেছে, জানাও গেছে অনেক কিছু তথাপি অজ্ঞাত থেকে গেছে অনেক বেশি।আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়া যাক কী কী জানা গেছে।

শুরু করা যাক হাওড়া থেকেই। হাওড়ার ডোমজুড়ে মাসির বাড়িতে আনাগোনা ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের। কানাঘুষোতে এও জানা যায়, মাসতুতো ভাইকে নাকি সরকারি চাকরি করে দিয়েছিলেন মন্ত্রীকে ধরেই। এই অভিযোগ যখন করছেন এলাকাবাসীরা। তখন অর্পিতার মাসি, মেসোর দাবি, এই বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না। এমনকী মামাবাড়িতেও আনাগোনা ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। হুগলির জাঙ্গিপাড়ার দিলাকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের মথুরাবাটি গ্রামের বাড়িতে বসে মাছ ধরতেন পরিষদীয় মন্ত্রী। বছরে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় বার গোটা গ্রাম মন্ত্রীর সান্ত্রী, পুলিসবাহিনীর হানায় কার্যত তটস্থ হয়ে থাকত। আর এখন গোটা গ্রাম মাছ ধরার সেই দিনের ছবির স্মৃতি রোমন্থন করে চলেছেন। অবশ্য কেউ কেউ এমনও বলছেন, এই মন্ত্রীর ভয় দেখিয়ে গ্রামকে ত্রাসে রাখতেন অর্পিতা।বারুইপুরের বেগমপুরের পুড়ি এলাকার বিশ্রাম নামের এক বাগানবাড়িও চর্চার কেন্দ্রে রয়েছে। ঘনঘনই নাকি সেখানে আসতেন অর্পিতা। মাঝে মাঝে মন্ত্রী সান্ত্রীর বাজনাও বাজত সেখানে। পুলিসে ছয়ালাপ ওই বাগানবাড়ির চৌহদ্দিতে কাওকে দেখা যেত না।

অর্পিতাকে মডেল অভিনেত্রী হিসেবে যত না চিনতেন, তার থেকে বেশি বোধহয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচত ছিলেন তিনি। তাঁদের আলাপ হয়েছিল সাত বছর আগে এক প্রোমোটারের মাধ্যমে। সেই সম্পর্ক ক্রমেই প্রগাঢ় হয়েছে।স্বাভাবিকভাবেই এই দুই অসম বয়সীর বন্ধুত্ব এবং ইডির হাতে বিপুল টাকা গদি উদ্ধার – সব মিলিয়ে কেমন যেন একটা গন্ধ পাচ্ছেন সকলে।

দুরকম ভাবে ব্যখ্যা হতে পারত ইডি হানার। কিন্তু অবস্থা এমন ঘোরতর পার্থর হয়ে তাঁর দুর্দিনে মুখ খুলছেন না কেউ। কারণ ২১ জুলাই মঞ্চ থেকে মুড়ির বাণী ও ইডি -সিবিআইকে তোপ দাগার পরে ইডির হানা যার জেরে পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পাচ্ছেন না পার্থ। কিন্তু প্রশ্ন এও ওঠা স্বাভাবিক ছিল এস এস সি দুর্নীতির জেরে সিবিআই আবার যেকোনো সময় ইডি জেরে করবেন জেনেও পার্থ চট্টোপাধ্যায় কেন নিজের বাড়িতে নিয়োগ সংক্রান্ত নথি রেখে দেবেন? পার্থর অতি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হয়েও অর্পিতা এরকম ক্রান্তিকালে কেন একুশ কোটি টাকা প্রমাণ সহ কেন রেখে দেবেন নিজের ফ্ল্যাটে? অর্পিতার ফ্ল্যাটে দিনে-রাতে যার অবাধ যাতায়াত সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানতেন এই “যখের ধনের ” ইতিবৃত্ত? একি শুধুই অর্পিতার নির্বুদ্ধিতা? এরকম প্রশ্ন উঠুক বা না উঠুক, আপাতত উত্তর মিলছে না।।


More Stories
আইনি জটিলতা কাটাতে এনসিপিআই-এ মিশে গেলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা
“রাজনৈতিক প্রতিহিংসা “, জামিনের আবেদন সুজিত বসুর
কার্যত ভুল স্বীকার করে নিলেন অভিষেক, সুর নরম কল্যাণের, অভিষেক – কল্যাণ বিবাদ মিটল!