সময় কলকাতা ডেস্ক :
দুর্গাপুজোর সঙ্গে কেবলমাত্র জনশ্রুতি নয়, জড়িয়ে আছে ইতিহাস। আর এরকম মিশেল নিশ্চিত ভাবে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতের শিবের কোঠায়। এখানে জড়িয়ে আছে বারোভূঁইয়ার ইতিহাস, আছেন মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ও আকবর মহিষী যোধাবাই।

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন পুজো বারাসাত দক্ষিণপাড়ায় শিবের কোঠার দুর্গাপুজো। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকালে আকবরের রাজমহিষী যোধাবাইএর সহায়তায় শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় প্রথম এই পুজো শুরু করেন। সাল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সময়কাল সপ্তদশ শতকের গোড়ার দিকে। শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বারো ভূঁইয়ার অন্যতম প্রতাপাদিত্যর প্রধান সেনাপতি। যশোর থেকে মানসিংহ তাকে বন্দী করে নিয়ে গেলে যোধাবাই তাঁর তর্পণ শুনে মুগ্ধ হয়ে জাহাঙ্গীরকে তাঁকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে নির্দেশ দেন। এরপর বারাসাতে ফিরে এসে যোধা বাইএর স্বপ্নাদেশ মেনে শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় শুরু করেন শিব দুর্গা পুজো। শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের বর্তমান প্রজন্মে শেষ পুরুষ ছিলেন কিরণ শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলতেন,এটি ১৬০৭ সালে শুরু। যদিও অন্যান্য শরিকদের ধারণা তথাকথিত প্রাচীন বনেদি পুজো সাবর্ণ রায়চৌধুরী দের পুজোর পর পরই এই পুজো সূচনা হয়। মনে রাখতে হবে যোধাবাইয়ের মৃত্যু হয় ১৬২৩ খ্রিস্টাব্দে। জাহাঙ্গীর সিংহাসনে অভিষিক্ত হন ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে।অর্থাৎ পুজোর গোড়াপত্তন ১৬০৫ থেকে ১৬২৩ সালের মধ্যে।বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বলা যায় এই পুজোর সূচনালগ্ন সপ্তদশ শতকের একেবারে গোড়ার দিকে ।চারশো বছর ছাড়িয়েছে এই পুজো।

শংকরের কাছে থাকা সেই প্রাচীন সময়ের রাধা এবং পরে নতুন করে শংকরের তৈরি কৃষ্ণ আজও পুজোর দিন পুজোর দালানে রেখে পুজো চলে ।কিরণশঙ্কর প্রয়াত হওয়ার পরে বাড়ির মহিলারা পুজোর হাল ধরেছেন।জন্মষ্টমীর দিন কাঠামো নির্মাণ থেকে পুজোর সাজো সাজো রব শুরু হয়ে যায়। এরপরই প্রতিমাকে মণ্ডপে তোলা হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী পাঁচ দিন ধুমধাম করে চলে পুজো। শাক্ত , শৈব, বৈষ্ণব তিনটি মত মেনেই পুজো হয় । আগে এখানে পাঠা বলি দেওয়ার প্রথা ছিল , এখন চাল কুমড়ো সহ নিরামিষ বলি দেওয়া হয়। পুজো শেষ হলে বিসর্জনের দিন পুরনো কাঠামোকে রেখে দেবী প্রতিমা কে খালি নিরঞ্জন দেওয়া হয়।।


More Stories
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি
দেবীপ্রতিমা তৈরীর মাটি সংকট কাটল মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে
হর্ষ-বিষাদে পালিত ঈদ-উল-আযহা