Home » মিড ডে মিলের তদন্তের শেষ দিন, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়বে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকে

মিড ডে মিলের তদন্তের শেষ দিন, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়বে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকে

সময় কলকাতা ডেস্ক,৬ জানুয়ারি: সোমবার রাজ্যে মিড ডে মিলের তদন্তের শেষ দিন। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। সোমবার প্রাথমিক রিপোর্ট বিকাশভবনে জমা দিতে পারেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়বে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকে। রবিবারই রাজ্যে এসেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করে তাঁরা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেন। মিড ডে মিল প্রকল্পে ঠিকঠাক ভাবে শিশুরা খাবার পাচ্ছে কিনা? রান্নার জন্য কত জন আছেন? রান্নার জন্য কী তেল ব্যবহার হয়? কি ধরনের মশলা ব্যবহার হয় রান্নার কাজে? কী ধরনের চাল ব্যবহার হয়? এই সংক্রান্ত বিষয়গুলিই এদিন খতিয়ে দেখেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। এমনকী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে ঘুরে স্কুলের রান্না ঘরেও ঘুরে দেখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল।


প্রসঙ্গত, রাজ্যে মিড ডে মিল নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই জেলাগুলিতে বিক্ষোভ অব্যাহত। চাল চুরি, ডাল চুড়ি’র পর বর্তমানে খাবারের গুণগতমান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে আসছে। সম্প্রতিক সময়ে মিড ডে মিলের খাবারে মিলেছে সাপ, মরা ইঁদুর, টিকটিকি সহ বিষাক্ত পোকামাকড়। বহু ক্ষেত্রেই ছাত্র-ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে লিখিত রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একাধিক খবর রিজিওনাল ও জাতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জয়েন্ট রিভিউ মিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এদিকে, গত ৫ জানুয়ারি মিড ডে মিল নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

নবান্নের তরফে রাজ্যের সমস্ত জেলা শাসকদের একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। যেখানে বলা হয়েছে,এবার থেকে রাজ্যের সরকারি, সরকার সাহায্য প্রাপ্ত স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের পাতে ডাল-ভাত-তরকারির পাশাপাশি থাকবে মুরগীর মাংস, ডিম থাকবে ফলও। সপ্তাহে ৩ দিন ডিম ও মরসুমি ফল দেওয়া হবে। আর এর জন্য মোট রাজ্য সরকারের খরচ হবে অতিরিক্ত ৩৭০ কোটি টাকা। প্রতি সপ্তাহে পড়ুয়াপিছু অতিরিক্ত ২০ টাকা খরচ করা হবে। একমাসে পড়ুয়া পিছু মোট ৩২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৪ মাস, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মিড ডে মিলে নতুন মেনু নির্ধারণ করা হয়েছে।


উল্লেখ্য,মিড-ডে মিল প্রকল্পে দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে গত কয়েক মাস ধরে। একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনার পর মিড ডে মিলে এই দুর্নীতি যা সরাসরি ভাবে প্রভাব ফেলেছে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষের মনে। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে কোণঠাসা রাজ্যের শাসক দল। আর তাই গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষের আস্থা ফিরে পেতে মিড ডে মিলে ডিম মাংস ফল দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্কুল শিক্ষা দপ্তরের। চাল চুরি থেকে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, কম ছাত্রকে খাইয়ে বেশি ছাত্র দেখানোর মতো নানা অভিযোগে এর আগে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঘেরাওয়ের ঘটনা যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল জেলায় জেলায়।

About Post Author