সময় কলকাতা ডেস্ক,৪ মে: মোদি পদবী মামলায় এবার আরও বিপাকে রাহুল গান্ধি। গুজরাট হাইকোর্টের পর এবার ঝাড়খণ্ডের আদালতেও ধাক্কা। মোদি পদবি মামলায় ক্রমশ অস্বস্তিতে পড়ছেন রাহুল গান্ধি। বুধবার ঝাড়খণ্ডের স্থানীয় একটি আদালত জানিয়েছে, এই মামলায় সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে রাহুলকে। আইনজীবী মারফত হবে না সওয়াল জবাব। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কর্ণাটকের কোলারে মোদি পদবি নিয়ে মন্তব্য করায় রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানি মামলা দায়ের হয়।

গত ২৩ মার্চ সুরাটের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই মানহানি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে কংগ্রেস নেতাকে। তাঁকে দু’ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার সাজা দেওয়া হয়। পরদিনই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ করেন। তারপরেই রাহুল গান্ধি আবেদন করেন সুরাটের দায়রা আদালতে। সেখানেও কোনওরকম স্বস্তি পাননি কংগ্রেস নেতা। দায়রা আদালতে ধাক্কার পর আবার গুজরাট হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন রাহুল। নিম্ন আদালতের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হাই কোর্টেও স্বস্তি মেলেনি। এসবের মধ্যে আবার ঝাড়খণ্ডর আদালতেও ধাক্কা খেলেন রাহুল গান্ধি। প্রণব মোদি নামের এক আইনজীবী রাঁচির ওই আদালতে মামলা করেন রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাগুলিরও শুনানি চলছে রাঁচির আদালতে। সেই মামলাতেই এবার থেকে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে রাহুল গান্ধিকে।

উল্লেখ্য, মোদি পদবিধারীদের মানহানির মামলায় সুরাতের নিম্ন আদালত ২৩ মার্চ রাহুল গান্ধিকে দু’ বছর জেলের সাজা দিয়েছে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি দায়রা আদালতে গিয়ে সাজার মেয়াদ কমানোর আর্জি জানিয়েছিলেন গত মাসে। কারণ, নিম্ন আদালত দু’ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়ায় তাঁর সাংসদপদ খারিজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দায়রা আদালত সেই আর্জি মানেনি। দায়রা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রাহুল গুজরাট হাইকোর্টে মামলা করেন। গত সপ্তাহে সেই মামলার শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল বিচারপতি মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ রায় শোনাবেন। মঙ্গলবার তিনি জানান, রায় ৪ জুন ঘোষণা করবেন। ততদিন পর্যম্ত সাজা বহাল থাকবে। সাজার মেয়াদ কমানোর আর্জির পক্ষে অন্তবর্তী আদেশ জারির অনুরোধও ফিরিয়ে দেন তিনি।
আরও পড়ুন বিয়ে নয়, এবার বিচ্ছেদের ফটোশুট ! নেট দুনিয়ায় ভাইরাল টেলি অভিনেত্রী

২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্নাটকের কোলারে নির্বাচনী প্রচারে মোদী পদবি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তিনি বলেছিলেন, “সমস্ত চোরদের পদবিই মোদী হয় কেন? তা সে নীরব মোদীই হোক বা ললিত মোদী কিংবা নরেন্দ্র মোদী”। রাহুল গান্ধির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সুরাটের বিজেপি নেতা পূর্ণেশ মোদী মানহানির মামলা দায়ের করেন। গত ২৩ মার্চ গুজরাটের সুরাট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই মানহানি মামলায় রাহুল গান্ধিকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ২ বছর কারাদণ্ডের সাজা দেন। সুরাতের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল সুরাতেরই দায়রা আদালতে আবেদন করেছিলেন রাহুল। রাহুল বলেছিলেন, তিনি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাবেন। যেহেতু তিন বছরের কম কারাদণ্ডের সাজা তাই সুরাতের ওই আদালতই রাহুলের জামিন মঞ্জুর করে। তবে রাহুলকে দোষী ঘোষণা করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এইচএইচ বর্মার রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি দায়রা আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়ার জন্য ফের দায়রা আদালতেই আর্জি করেছিলেন রাহুল।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় রাহুল গান্ধি মন্তব্য করেছিলেন “সব মোদিরা কেন চোর হয়?” নীরব মোদি, ললিত মোদিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই রাহুল এই মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু সুরাটের দায়রা আদালতে রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে মামহানীর মামলা হয়। মামলা করেছিলেন গুজরাটের বিজেপি নেতা পূর্ণেশ মোদি। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাহুল এই মন্তব্য করে সমস্ত ‘মোদি’ পদবীর মানুষদের অপমান করেছেন। এরপরই রায়দানের সময় সুরাটের আদালতে উপস্থিতও ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ। সাজা ঘোষণার পরই রাহুলের আইনজীবী জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের কথা জানিয়ে জামিনের আবেদন করেন। এরপরই বিচারক ৩০ দিনের জন্য ২ বছরের সাজার উপর স্থগিতাদেশ দেন। রাহুল গান্ধিকে এখন উচ্চ আদালতে আবেদন করতে হবে সাজা কমানোর জন্য।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর