Home » কাদের মালিকানায় চলছে গুজরাট টাইটান্স?

কাদের মালিকানায় চলছে গুজরাট টাইটান্স?

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা,২৮ মে : কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে মালিকানাসত্ত্বে জুড়ে আছে শাহরুখ খান ,জুহি চাওলা, জয় মেহতার নাম বা চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এন শ্রীনিবাসনের নাম। এই মহারথীরা টিমের বা ফ্রেঞ্চাইসির মালিক বা কর্ণধার। একইভাবে পাঞ্জাব কিংস দলের সঙ্গে নেস ওয়াদিয়া -প্রীতি জিন্টা প্রমূখের নাম বা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলের সঙ্গে মুকেশ আম্বানি -নীতা আম্বানির নাম জুড়ে আছে। কিন্তু, গুজরাট টাইটান্স সম্বন্ধে কজনই বা জানেন? এই ফ্রেঞ্চাইজির মালিকানা কার? প্রতিবেদনের প্রথমেই বলে নেওয়া যাক ২০২২ ও ২০২৩ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ মরশুমে সাড়া জাগানো ফল করা গুজরাট টাইটান্সের মালিকানায় একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার হাতেই রয়েছে। স্টিভ কোল্টেসের সভাপতিত্বে সিভিসি ক্যাপিটাল পার্টনার্স বা সিভিসি ক্যাপিটালস গুজরাট টাইটান্স মালিকপক্ষ।

সিভিসি ক্যাপিটাল পার্টনারস সম্বন্ধেই বা কতটুকু কে জানেন? লুক্সেমবার্গ স্থিত ইন্টারন্যাশানাল ইকুইটি ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম সিভিসি ক্যাপিটালস বা তাদের ভারতে ক্রিকেটে লগ্নি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পরে করা হচ্ছে। যেখানে মালিক সংস্থাটির সম্পর্কে ও গুজরাট টাইটান্স দলের দায়িত্ব কোন কোন ব্যক্তির উপরে ন্যস্ত আছে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু আইপিএলের দুটি সংস্করণের ভাগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সুদূরপ্রসারী ছাপ রেখেছে গুজরাট টাইটান্স। কী প্রভাব গুজরাট আইপিএল দলটি রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেটে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  ইস্টবেঙ্গলের চতুর্থ বিদেশী পাকা! আসছেন ‘শিল্পী’ স্প্যানিশ মিডফিল্ডার

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আইপিএল সংস্করণের আগে, বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল টুর্নামেন্টে দুটি অতিরিক্ত দল যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময়ই দেখা যায় গুজরাট টাইটান্স দলের অন্তর্ভুক্তি। অপর একটি নব অন্তর্ভুক্ত দল ছিল সঞ্জীব গোয়েঙ্কার লখনউ সুপার জায়ান্টস। দল গঠনে খেলোয়াড় চয়নের ক্ষেত্রে কিছু চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেয়। গুজরাট টাইটান্স প্রথম বছরেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (MI) থেকে হার্দিক পান্ড্যকে দলে টেনে নিয়ে তাকে অধিনায়ক করে। মেগা নিলামের আগে, তারা কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে শুভমান গিল এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (এসআরএইচ) থেকে রশিদ খানকেও ড্রাফটের মাধ্যমে দলভুক্ত করেছিল। নিলামের পরে, ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সন্দেহ হয়েছিল গুজরাট সঠিক খেলোয়াড় চয়ন করেনি।  এর প্রধান কারণ ছিল অধিনায়ক নির্বাচন। আইপিএলের ২০২১ মরশুম মুম্বাই দলের হয়ে হার্দিকের সময় খুব একটা ভালো কাটেনি। তিনি কীভাবে সুচারুভাবে অধিনায়কত্বের কাজ পরিচালনা করবেন তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ ছিল। যাইহোক, গুজরাট বিগত মরশুমে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করে ও সর্বোপরি আইপিএল জিতে সমস্ত সন্দেহের অবসান ঘটায়।

শুভমান গিল, হার্দিক বা রশিদের পাশাপাশি উইকেটের পেছনে অভিজ্ঞ ঋদ্ধিমান সাহা বা পেস বোলার মহম্মদ সামি বা লুকি ফার্গুসন এবং ব্যাট হাতে ম্যাথু ওয়েড বা ডেভিড মিলার নিজ নিজ দায়িত্ব এত সুষ্ঠভাবে পালন করেন যে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে তারা সঞ্জু স্যামসনের নেতৃত্বে রাজস্থান রয়্যালসকে (আরআর) অনায়াসে হারিয়ে প্রথমবার আইপিএল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়। বোঝা যায় প্লেয়ার চয়ন সঠিক ছিল গুজরাট দলের। শুধু তাই নয়,হার্দিক ফাইনালের প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন কারণ তিনি চার ওভার বল করে মাত্র সতেরো রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলেছিলেন এবং মিডল অর্ডারে ব্যাট করে খুব দরকারি ৩৪ রান করেছিলেন। ফলশ্রুতি হার্দিকএরপরে অন্যভাবে পুরস্কৃত হন যখন তিনি রোহিতের অনুপস্থিতিতে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি উভয় ক্ষেত্রেই ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পান এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অধিনায়ক হিসেবে সাফল্য লাভ করেন হার্দিক পান্ডিয়া। অতঃপর ২০২৩ সালেও হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে গুজরাট গ্রুপ শীর্ষে থেকে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল ফাইনালে পৌঁছেছে।

সারা টুর্নামেন্ট ধরেই দেখা গিয়েছে,এবার দলের ভারসাম্য বেড়েছে কামব্যাক পেসার মোহিত শর্মা বা আফগান স্পিনার নুর আহমেদের প্রদর্শনে। মোহিত ২৪ টি ও নুর ১৪ টি উইকেট পেয়েছেন। হার্দিক পান্ডিয়ার অধিনায়কত্ব যথারীতি চোখে পড়ছে। বল হাতে ২৮ টি উইকেট তুলছেন সামি। অন্যদিকে সম্ভবত তার এযাবৎকাল পর্যন্ত সেরা ক্রিকেট খেলছেন শুভমান গিল। তিনি ফাইনালের আগে অব্দি ৮৫১ রান করে বসে আছেন।গুজরাট দলের হয়ে সাই সুদর্শনের মত উদীয়মান প্লেয়ারদের ভালো খেলতে দেখা যাচ্ছে। টানা দ্বিতীয়বার গুজরাট আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হবে কিনা তা সময়ই বলবে তবে গুজরাট পথ দেখাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটে। ভারতীয় ক্রিকেটে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রূপকার হয়ে ওঠা গুজরাট টাইটান্স দলের নেপথ্যে যে কুুশীলবরা রয়েছেন তাদের সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক। বর্তমান মালিক ও আইপিএল দল সম্পর্কে যা তথ্য মিলেছে সেখান থেকে প্রথমে জানানো যাক – এই দলের মালিকানা স্টিভ কোল্টেস, ডোনাল্ড ম্যাকেঞ্জি, রলি ভ্যান ৱ্যাপার্ড এই ত্রয়ীর হাতে রয়েছে। সিইও পদে বর্তমানে কেউ নেই।

আরও পড়ুন    নবজোয়ার কর্মসূচিতে যোগ দিতে শালবনীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এছাড়া যে তালিকা গুজরাট টাইটান্স দলের পক্ষ থেকে পেশ করা হয়েছে তা হল :

অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া

কোচ আশিস নেহরা

ক্রিকেটের পরিচালক বিক্রম সোলাঙ্কি

ব্যাটিং কোচ এবং মেন্টর গ্যারি কার্স্টেন

সহকারী কোচ নাঈম আমিন

সহকারী কোচ নরেন্দ্র নেগি

সহকারী কোচ মিঠুন মানহাস

স্পিন বোলিং কোচ ও স্কাউট আশীষ মানহাস

প্রধান ফিজিওথেরাপিস্ট রোহিত সাওয়ালকার

এবার সিভিসি ক্যাপিটালসের দিকে আলোকপাত করা যাক-

গুজরাট টাইটান্সের মালিক সিভিসি ক্যাপিটালস ২০২২ সালে ৫৬০০ কোটি টাকায় আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছিল। খেলাধুলোয় লেনদেন ছাড়াও, ইউরোপে অবস্থিত সংস্থাটি ব্রোকারেজ এবং বিনিয়োগ ব্যাংকিং-এর ব্যবসাও চালায়। স্টিভ কোল্টস এই সংস্থার চেয়ারম্যান। সিভিসি (CVC )দাবি করেছে যে, এটির পরিচালনার অধীনে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড সম্পদ সুরক্ষিত এবং ১৫৭ বিলিয়ন পাউন্ড সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি রয়েছে৷ সিভিসি (CVC) ওয়েবসাইটে থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সিভিসি ক্যাপিটালস (CVC Capitals )সারা বিশ্ব থেকে ৫০০ টিরও বেশি “সর্বোচ্চ মানের, ব্লু চিপ ক্লায়েন্টদের” তহবিল পরিচালনা করে।

ক্রিকেট ছাড়াও, সিভিসি ক্যাপিটালসের ফর্মুলা ওয়ান, রাগবি, ফুটবল এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে। যদি রিপোর্টগুলি বলা হয়, কোম্পানিটি রাজস্থান রয়্যালস (RR) এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের(DC)র সাথে চুক্তি করার চেষ্টাও করেছিল, কিন্তু এর থেকে উল্লেখযোগ্য কিছুই তথ্য উঠে আসেনি। গুজরাট টাইটানস (GT) টিম ব্র্যান্ড ভ্যালু বা গুজরাট টাইটান্সের মালিকরা কত উপার্জন করেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।এর মুখ্য কারণ টাইটানসের সঠিক ব্র্যান্ড মূল্য এখনও জানা যায়নি। গত বছর, দলটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) অরবিন্দর সিং,গতবার টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে উচ্ছ্বসিত হয়ে ১৫ জন অংশীদারের সাথে বহু-বছরের চুক্তি স্বাক্ষরের কথাবার্তার উল্লেখ করেছিলেন। অ্যালকেমিস্ট মার্কেটিং সলিউশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনীশ পোরওয়াল বলেছেন যে গুজরাট ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্র্যান্ড ভ্যালু আইপিএল ২০২২-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কিন্তু উল্লেখযোগ্য ভাবে এই বছর কাউকে গুজরাট দলের সিইও পদে দেখা যায়নি। প্রাপ্ত তথ্য ও অপ্রতুল। তবুও যা তথ্য মিলেছে তার ভিত্তিতে আইপিএল ২০২৩-এ গুজরাট টাইটান্স দলের স্পনসর ও অংশীদারের কথা আলোচনা করা যাক।

আরও পড়ুন    আহমেদাবাদে গিলের তাণ্ডব, মুম্বইকে হারিয়ে ফাইনালে গুজরাট

প্রধান অংশীদার: অ্যাথার (ATHER)

সহযোগী অংশীদার: বিকেটি , ক্যাপ্রি লোন্স , জিও , অ্যাস্ট্রল পাইপস , সিম্পলো , এসিকেও , একুইটাস , টাইমেক্স , রেজন সোলার

অফিসিয়াল পার্টনার: রারিও , ড্রিম 11, জিও সিনেমাস , বিশলরি , হ্যাভমোর , ক্রোমা , মাঞ্চ , বোট , ভিবট

এক্সক্লুসিভ টিকিট পার্টনার: পেটিএম ইনসাইডার, পেটিএম

মার্চেন্ডাইজ পার্টনার: ইএম ফ্যানকোড শপ , সাইবার্ট

রেডিও অংশীদার: ৯৫ রেডিও ওয়ান, টপ এফ এম ও 91.1 রেডিও সিটি

About Post Author