Home » নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার এবার ‘কালীঘাটের কাকু’

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার এবার ‘কালীঘাটের কাকু’

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ মেঃ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার আগে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু বলেছিলেন, ‘আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঢুকছি, বেরিয়ে যা বলার বলব’। সেই কালীঘাটের কাকুর আর বেরোনো হল না। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হলেন কালীঘাটের কাকু। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের কাকুর বেহালার বাড়ি, অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যেদিন এই তল্লাশি চলছিল, সেদিন আবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কালীঘাটের কাকুর বাড়ি ও অফিস থেকে ইডি বেরিয়েছিল ১৬ ঘণ্টা পর। জানা গিয়েছিল, প্রচুর নথি নাকি নিয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

আরও পড়ুন    ‘মণিপুর শান্ত হতে সময় লাগবে’, শাহি সফরের মাঝেই মন্তব্য সেনাধক্ষ্যের

সূত্রের খবর, সেই নথির ভিত্তিতেই কালীঘাটের কাকুকে তলব করা হয়েছিল ইডি দফতরে। শেষ পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর ইডির হাতে গ্রেফতার হলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেফতারি অনেকখানি তাৎপর্যপূর্ণ। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেকের অফিসের কর্মচারী। তার উপর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সুপ্রিম কোর্টেও রক্ষাকবচ পাননি। স্বাভাবিকভাবেই, তদন্তের গতি প্রকৃতির ওপর নজর থাকবে প্রত্যেকেরই। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর এএমডি পোস্টে ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কোম্পানিরই ডিরেক্টরস বোর্ডের একটি তালিকায় নাম ছিল সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের। কিন্তু,লোকসভা ভোটের আগেই এই কোম্পানি থেকে ইস্তফা দেন কালীঘাটের কাকু। প্রাথমিক তদন্তে ইডি-র অনুমান,কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরপথে কালো টাকা সাদা করত।

আরও পড়ুন    ভিআই ইউজারদের জন্য দুঃসংবাদ!

এ প্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, কাকু হল, জেঠু হল। এবার হয়তো পিসির সময় আসছে। ভাইপোও আছে। ক্লু খোঁজা হচ্ছিল। কান টানলে মাথা আসে। কান টানাটানি শেষ। এবার হয়তো মাথা আসবে। অন্যদিকে,কালীঘাটের কাকু গ্রেফতারির পরেই টুইট করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “হৃদয়ে পৌঁছে গিয়েছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার উচিত না থেমে মাথায় পৌঁছনো।”

ইতিমধ্যেই কালীঘাটের কাকুর একাধিক কোম্পানির যোগ সূত্র প্রকাশ্যে এসেছে। তার মধ্যে তিনি যে কোম্পানির হয়ে কাজ করতেন সেই লিপস অ্যান্ড বাউন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর ডিরেক্টরস বোর্ডের একটি তালিকা টুইট করেও বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের গ্রেফতারির নেপথ্যে বড়সড় চক্রান্তের দাবি করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি টুইটে লেখেন, “বায়রন তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি জোট ধাক্কা খেয়েছিল। সেই রাগে এবং নিজেদের ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতে দিনভর নাটকের পর রাতের উপসংহার নয় তো? তিন দলের উল্লাস দেখে সেটাই তো মনে হচ্ছে।” একই দাবি করেছেন জয়প্রকাশ মজুমদারও। অর্থাৎ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের গ্রেফতারির নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

About Post Author