সময় কলকাতা ডেস্ক,২২ জুনঃ অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। অবশেষে অশান্ত মণিপুর নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডাকল কেন্দ্র। আগামী ২৪ জুন শনিবার বৈঠকটি ডেকেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবারই দিল্লিতে তলব করা হয় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। তিনি প্রথম থেকেই মণিপুর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। বেশি রাতে তিনি দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপর বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হয়। শনিবার বিকাল ৩’টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে এই বৈঠক হবে। মণিপুরে সংঘর্ষ শুরু হয় ৩ মে। ইতিমধ্যে প্রায় ১২৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার।
আরও পড়ুন মণিপুরে জাতিদাঙ্গা বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার আর্জি কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধির

যদিও বিরোধী দলগুলি প্রথম থেকেই সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়ে আসছে। স্বাভাবিকভাবেই, সংঘর্ষ শুরুর ৫১ দিন পর হতে যাওয়া বৈঠকের সিদ্ধান্ত এমন সময় ঘোষণা করা হল যখন কংগ্রেস মণিপুর নিয়ে লাগাতার আক্রমণের পর বুধবার মুখ খোলেন স্বয়ং সনিয়া গান্ধী। ভিডিও বার্তায় সরকারের কঠোর নিন্দা করেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই সরব উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যটির অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায় বারে বারে সরব হয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ওই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমেরিকা সফর থেকে দেশে ফিরবেন। বৈঠকটি ডেকেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

গত দু’মাস ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। জাতিদাঙ্গার কারণে চলছে মৃত্যু মিছিল। কয়েক হাজার মানুষ পরিবার নিয়ে ঘর ছাড়া। এই পরিস্থিতিতে যখন নীরব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তখন প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফরের মধ্যে মণিপুর নিয়ে বিবৃতি দিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি। বিবৃতিতে সনিয়া এদিন একবারও প্রধানমন্ত্রীর কথা বলেননি, বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার কথাও বলেননি। শুধু কাতর আর্জি জানিয়েছেন, মণিপুরে জাতিদাঙ্গা বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার। সনিয়া গান্ধি এও বলেছেন, আমি একজন মা, তাই মা হয়ে মণিপুরের মা বোনেদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সন্তান ও পরিবারের কথা ভেবে আপনারা চেষ্টা করুন যাতে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়।
আরও পড়ুন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হল র্যাফ

এর আগে গত ১৭ জুন রাত থেকেই নতুন করে অশান্তি ছড়ায় গোটা রাজ্য জুড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষ,গুলি, আগুন লাগানোর খবর পাওয়া যায়। শনিবার ভোর পর্যন্ত চলে গুলি। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় আগুন লাগানোর খবর পাওয়া গিয়েছে। সেনাবাহিনী, অসম রাইফেলস, র্যা পিড অ্যাকশন ফোর্স ও রাজ্য় পুলিশ পূর্ব ইম্ফল জেলা জুড়ে দখলের পরই অশান্তি ছড়ায়। ইম্ফলের অ্য়াডভান্স হাসপাতালের কাছে অবস্থিত প্যালেস চত্বরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ র্যা ফ নামানো হয়। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস ও রবার বুলেট। এর আগে মঙ্গলবার রাতে একবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুরের কাংপোকপি জেলার খামেনলোক গ্রাম। চলে গুলি। গুলিতে অন্তত ৯জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, আহত হয়েছেন অনেকেই। এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ৮৪ জনের। এদিকে এই ঘটনার পর থেকে খামেনলোক গ্রামের ৫ জন নিখোঁজ। অন্যদিকে, মণিপুরে নতুন করে অশান্তি শুরুর পরেই ইম্ফল পূর্ব এবং ইম্ফল পশ্চিম জেলায় কারফিউর সময়সীমা কমিয়ে সকাল ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত করা হয়েছে।


More Stories
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?