সময় কলকাতা ডেস্ক,১ জুলাই ঃ পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। হাইকোর্টের ভৎসনার মুখেও পড়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তার মাঝেই আবার নকল ব্যালটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সরব হয়েছে বিরোধীরা। শুধু তা নয়, বিরোধীদের আশঙ্কা, ব্যালট বাক্সই বদলে দেওয়া হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ভোটে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, ব্যালট বাক্সে কিউআর কোড লাগাচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই প্রথম ব্যালট বাক্সে কিউআর কোড লাগানো হচ্ছে। যাতে কোন ব্যালট কোন বুথে যাচ্ছে, তার হিসাব থাকে। সেই সঙ্গে ব্যালট বাক্স যেন বদল করা না যায়।
আরও পড়ুন ‘বাংলায় আর হিংসার ঘটনা বরদাস্ত নয়’, জানালেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস

যদিও, নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নকল ব্যালট পেপার ছাপানোর খবর ভিত্তিহীন। কারণ প্রতিটি ব্যালট পেপারে সিরিয়াল নম্বর থাকবে। কোন বুথে কত সিরিয়াল পর্যন্ত ব্যালট পেপার যাচ্ছে তার হিসাব থাকবে। বুথে রাজনৈতিক দলের যে পোলিং এজেন্ট থাকবেন, ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগে তিনি নোট করে নিতে পারবেন ব্যালটের সিরিয়াল। অর্থাৎ কত থেকে কত সিরিয়াল পর্যন্ত ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। তা ছাড়া এবার এক প্রকার হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে পঞ্চায়েত নির্বাচন হচ্ছে। ফলে কমিশন ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা পর্ব পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা রাখতে চাইছে।

এদিকে,কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনের মাধ্যমে রাজ্যের আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট করানো নিয়ে নানান জলঘোলা চলছেই। কত বাহিনী পাঠানো হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এখনও অব্যাহত। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৬৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে। আরও বাহিনী চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে আবেদন জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তারই মধ্যে জওয়ানদের কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দীর্ঘক্ষণ ধরে কমিশনার, বিএসএফের আইজি, সিএপিএফ ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে বৈঠক হয়। তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে বাহিনীর মূল কাজ হবে নাকা চেকিং, এরিয়া ডমিনেশন, জনগণের আস্থা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক এবং সীমানা ও সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ ঠিক করে দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন

এদিন বৈঠক শেষে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা জানান, কেন্দ্র কত বাহিনী দিচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে বুথভিত্তিক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হবে। ইতিমধ্যে ৬৫ কোম্পানি বাহিনী এসেছে রাজ্যে। বাকি বাহিনী রবিবারের মধ্যে আসবে বলে খবর। এছাড়া ৬৫ হাজার পুলিশ রয়েছে গোটা রাজ্যে। বাড়তি কয়েক কোম্পানি স্টেট স্পেশ্যালাইজড ফোর্স দেওয়া হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, মোট কত বাহিনী আসছে, বাকি ৪৮৫ কোম্পানি নিয়ে কী দাঁড়াচ্ছে। সেসব দেখেই বুথের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত। এদিনের বৈঠকে কমিশনার জানিয়েছেন, ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১,৩০০ অভিযোগ জমা পড়েছিল। যার মধ্যে ১,২০৬টি অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে রাজ্যের মোট ৬৩ হাজার বুথের প্রতিটিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে নীরব ছিলেন রাজীব সিনহা।


More Stories
সরকারে বিশ্বাস রেখে বারুইপুরে সায়নী ফাঁসি চাইছেন
অভিযুক্তদের দড়ি বেঁধে ঘোরানো ওসিদের জেলে যেতে হবে, মহুয়া মৈত্রের বক্তব্যের আইনি ব্যাখ্যা কী?
দেবরাজের পরে এবার কে? পার্থ ভৌমিককে গ্রেফতারের ইঙ্গিত দিলেন কৌস্তভ