সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ জুলাই: গত দু’সপ্তাহ ধরে টান বৃষ্টির জেরে বন্যায় বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ। বিপদ যেন শেষই হচ্ছে না হিমাচলে! একাধিক জায়গায় ধসের জেরে রাস্তা বন্ধ। সেই রাস্তা সারানোর জন্যই জেসিবি মেশিন আনিয়ে চলছিল ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। কিন্তু সেই কাজ শেষ না হতেই সেই মেশিনের ওপরই ফের হুড়মুড়িয়ে নামল ধস। বিশালাকার বোল্ডার গড়িয়ে এসে পড়ল একেবারে জেসিবি মেশিনের উপর! ভয়ঙ্কর সেই ধসের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। জানা গিয়েছে, মানালি-কুলু জাতীয় সড়কে ঘটেছে এই ঘটনা। মান্ডিতে চণ্ডীগড়-মানালি হাইওয়ের ৬ মাইলের কাছে ধস নামার জেরে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জেসিবি নামিয়ে সেই রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছিল। তখনই আচমকা ধস নামে আবার। পাশের পাহাড় থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে বিশালাকার বোল্ডার। গড়িয়ে এসে তা পড়ে জেসিবি মেশিনের উপর।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বোল্ডার পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে কোনও মতে বাইরে লাফ মারেন সেটির চালক। ফলে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। আশেপাশের লোকজন আতঙ্কে চিৎকার করতে শুরু করেন। কয়েকজনকে দৌড়ে পালাতেও দেখা যায়। সেই ঘটনার পরেই মানালি-কুলু জাতীয় সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে পরে যদিও পাথর সরিয়ে খুলে দেওয়া হয় রাস্তা। উল্লেখ্য, একনাগাড়ে বৃষ্টির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভয়ঙ্কর অবস্থা হিমাচলপ্রদেশে। হড়পা বান আর ধসের কারণে ভেঙে পড়েছে বাড়িঘর, ভেসে গেছে স্কুল-কলেজ-অফিস। সোমবার সকাল থেকে হিমাচলের কুলুতে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাড়িঘর, দোকানপাট ভেসে গেছে। ধস নেমে রাস্তা বন্ধ। জলমগ্ন বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেনা নামানো হয়েছে রাজ্যে। বন্যায় ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। সেই সঙ্গে আহত হন ৩ জন। প্রকৃতির রোষে অসহায় গোটা রাজ্য। এখনও অবধি মৃত্যু বেড়ে ১২০ জনে পৌঁছেছে। জলের তোড়ে নিখোঁজ অনেক।

প্রসঙ্গত, বন্যায় বিপর্যস্ত সমগ্র সারা উত্তর ভারত। বিপর্যয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না হিমাচল প্রদেশের। সোমবার সকাল থেকে হিমাচলের কুলুতে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যায় ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। সেই সঙ্গে আহত হন ৩ জন। প্রকৃতির রোষে অসহায় গোটা রাজ্য। এখনও অবধি মৃত্যু বেড়ে ১২০ জনে পৌঁছেছে। জলের তোড়ে নিখোঁজ অনেক। হিমাচলে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিপাসা নদী। নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়ি-ঘর। বিপর্যস্ত জনজীবন। উত্তাল বিপাসা নদীতে নিমেষে ভেসে গেছে পর্যটকদের একের পর এক গাড়ি।বাড়িঘর, দোকানপাট ভেসে গেছে। ধস নেমে রাস্তা বন্ধ। জলমগ্ন বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন লাগাতার ধস-হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০

চন্দ্রতাল, পাগল নাল্লা, লাহুল-স্পিতি ভেসে গেছে। একের পর এক ভূমিধসে লন্ডভন্ড সব। সেনা নামানো হয়েছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংহ সুখু জানিয়েছেন, শনিবার থেকে লাহুল এবং স্পিতির চন্দ্রতালের কাছে আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। তাঁদের উদ্ধার করার জন্য সব রকম ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পর্যটকরা কী অবস্থায় আছেন, সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য হেলিকপ্টারে করে ওই অঞ্চল পরিদর্শন করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। জাতীয় সড়ক, সেতু নদীরে জলে ভেসে গেছে। আগামী কয়েকদিন হিমাচল প্রদেশে লাল সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। দুর্যোগ না থামা অবধি বাড়ির বাইরে বেরোতে বারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু। সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করে সতর্ক করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে ১১০০, ১০৭০, ১০৭৭ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।


More Stories
বিরল রোগে মরণাপন্ন আফগান পেসার দিল্লির
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
বারাসাত বিজেপিতে ভাঙন, দল ছাড়লেন তাপস মিত্র