সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ জুলাইঃ মণিপুর ইস্যুতে পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার সংসদের দুই কক্ষে বুধবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করল ‘ইন্ডিয়া’। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিরলার কাছে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করল বিরোধীরা। বিরোধীরা উত্তর-পূর্বের অশান্ত রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছে। যা পত্র পাঠ খারিজ করে দিয়েছে সরকার পক্ষ। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা মনে করছে অনাস্থা প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারে সরকারের বিরুদ্ধে। কারণ তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের জবাবি ভাষণ এড়ানো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কঠিন। প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে সংসদে না এসে অন্য কোনও নেতাকে এগিয়ে দেন তা হলেও সরকারের মুখ পুড়বে। বিরোধী জোট মনে করছে মণিপুর নিয়ে অচলাবস্থায় সুযোগ নিয়ে সরকার ৩১টি বিল পাস করিয়ে নিতে চাইছে। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাব এনে তারা সরকারের মুখোশ খুলে দিতে পারবে। বিরোধীদের হাতে এই অস্ত্র রয়েছে।

সূত্রের খবর বুধবার সকাল বাদল অধিবেশনের শুরুতেই লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনার নোটিশ পেশ করেন লোকসভায় কংগ্রেসের ডেপুটি নেতা গৌরব গগৈ। ইতিমধ্যেই স্পিকারের অফিসে সেই নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কংগ্রেস নেতা মনিকাম ঠাকুর। এদিন এই অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশে ৫০ জনের বেশি বিরোধী সাংসদ সাক্ষর করেছেন বলেই জানা গিয়েছে। যদিও বুধবার এই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছেন লোকসভা স্পিকার। স্পিকার এই মর্মে গোটা বিষয়টা খতিয়ে দেখে তবেই আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করবেন।
আরও পড়ুন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাতেই প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে মানিককে জেরা

গত সোমবারই মণিপুর ইস্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ। মণিপুরে প্রকাশ্যে দুই আদিবাসী মহিলাকে নিগ্রহের ঘটনায় উত্তপ্ত হয় সংসদের বাদল অধিবেশন। মণিপুর নিয়ে আলোচনার দাবিতে সংসদের দুই কক্ষে মুলতুবি প্রস্তাবও দিয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সোমবার সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি চেয়ে সংসদে ধরনায় সামিল বিরোধী শিবির। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদ ভবনের বাইরে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধরনা শুরু করে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা। মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়েই সরব তাঁরা। হাজির ছিল তৃণমূল সাংসদরাও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের প্রায় সব সাংসদকেই দেখা গেল হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান তুলতে। মণিপুর ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তাঁরা।


More Stories
বিচ্যুতি থাকবেই, ফুলপ্রুফ সিস্টেম বলে কিছু হয়না : শমীক ভট্টাচার্য
শুভেন্দু -এনসিপিআই বৈঠক, তাৎপর্য কী?
বিজেপির বড় ধাক্কা, প্রশান্ত কিশোরের বাজিমাত