সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ জুলাইঃ মণিপুরে এক মহিলাকে যৌন হেনস্থা করছে বিএসএফ জওয়ান! সেই ঘটনারই চাঞ্চল্যকর সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে। মণিপুরে বিতর্কিত আফস্পা আইন চালু থাকার সময় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাজ্যের মহিলাদের নির্বিচারে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছিল। মনোরমা থাঙ্গিয়ামকে খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদে ২০০৪-এর ১৫ জুলাই মণিপুরে অসম রাইফেলসের সদর দফতরের গেটে নগ্ন শরীরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ১২ মহিলা। তাঁদের সামনে সাদা কাপড়ের উপর লালকালিতে লেখা ছিল ‘ইন্ডিয়ান আর্মি রেপ আস।’ সেই প্রতিবাদ নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। সেই ঘটনার ২০ বছর কেটে গেলেও ফের সেই স্মৃতি যেন উসকে দিল। সিসিটিভি ফুটেজ এক মহিলাকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি করতে দেখা গেছে এক বিএসএফ জওয়ানকে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে ফের, যা দেখে স্তম্ভিত নেটিজেনরা।

জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ২০ জুলাই ইম্ফলে একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে একটি মুদি দোকানে। অভিযুক্ত বিএএসএফ কর্মীর নাম সতীশ প্রসাদ, সে একজন হেড কনস্টেবল বলে জানা গেছে। দোকানের ভিতরে লাগানো একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সতীশকে উর্দি পরে ইনসাস রাইফেল নিয়ে দেখা গেছে। সেখানেই এক মহিলাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করতে, তাঁর শ্লীলতাহানি করতে দেখা গেছে তাকে। বিএসএফ-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মণিপুর পুলিশ দাবি করেছে, যৌন নির্যাতনের ঘটনার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয়নি কারণ নির্যাতিতারা এখনও তদন্তে সহায়তা করেননি।

এদিকে, উত্তপ্ত মণিপুরের ২ মহিলাকে নিগ্রহের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। ইতিমধ্যেই লজ্জাজনক ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনার পরই ভাইরাল হওয়া অই ভিডিয়ো দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত হুইরেম হেরোদাস মেইতি সহ সাতজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো হচ্ছে। তাদের ঘিরে ভিড় করে রয়েছে বেশ কিছু পুরুষ। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এমনকী এই ঘটনার পরেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং।
আরও পড়ুন মণিপুরে মহিলাদের নিগ্রহের ঘটনায় কড়া প্রশাসন, গ্রেফতার আরও ১ অভিযুক্ত

গত ৪ মে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। যদিও এই ঘটনার পরই সংরক্ষণ ইস্যুতে কুকিদের সঙ্গে মেইতেইদের সংঘাত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে ১২টি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। যদিও মণিপুরের একটি আদিবাসী সংগঠনের দাবি, মহিলাদের বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনায় ধরপাকড় শুরু হলেও দু’মাস আগে মূল ঘটনাটি ঘটে। ওই দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর পাশাপাশি তাঁদের একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলেও দাবি ওই আদিবাসী সংগঠনের। অভিযোগ, এই ঘটনায় অনেক আগেই থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু এত দিন পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। ২৬ সেকেন্ডের ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরেই দেশ জুড়ে শুরু হয় তোলপাড়।


More Stories
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!