সময় কলকাতা ডেস্ক,২ আগস্ট: এখনও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জেরে অগ্নিগর্ভ হরিয়ানা। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪৪টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ১১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। এবার হরিয়ানায় সাম্প্রদায়িক হিংসার আঁচ দিল্লিতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রাজধানীর ২৩ জায়গায় জমায়েতের ডাক দিয়েছে। পরিস্থিতি যে কোনও সময় হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বলেই জানা গিয়েছে। হরিয়ার সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের আঁচ যাতে রাজধানী দিল্লিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য বুধবার কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের প্রবীণ আইনজীবী সিইউ সিং বুধবার এই আর্জি নিয়ে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের দ্বারস্থ হন। প্রধান বিচারপতি দিল্লি নিয়ে মামলাটি শোনার নির্দেশ দেন।

বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি এসবিএন ভাটির বেঞ্চ এদিন বলেন, যে কোনও মূল্যে ঘৃণা ভাষণ আটকাতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসন রাজধানীতে ১৪৪ ধারা জারি এবং আধা সেনা মোতায়েন করতে পারে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। এমনকী সভা সমাবেশের ভিডিওগ্রাফিও করতে হবে। এদিন দিল্লির পাশাপাশি হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারকেও একই নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ইতিমধ্যেই হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর ইতিমধ্যেই রাজ্যবাসীকে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন। কোনও ধরনের ভুয়ো খবর যাতে রটানো না হয়, সেই আবেদনও জানান তিনি। একইসঙ্গে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, কোনওভাবেই যেন গুজবে কান না দেওয়া হয়। স্কুল-কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খোলা রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি দফতরও।
আরও পড়ুন শিক্ষা ক্ষেত্রকে দুর্নীতিমুক্ত করতে রাজভবনে ‘অ্যান্টি করাপশন সেল’ খুললেন রাজ্যপাল

প্রসঙ্গত,গত শনিবারই গুরুগ্রামের নুহ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে বাদশাহপুরে একটি ধর্মীয় মিছিলের ডাক দিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সেই মিছিল জাতীয় সড়কে পৌঁছালে একদল যুবক বাধা দেয় এবং পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে,৫০-৬০ জনের দল লাঠি, পাথর নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দোকান ভাঙচুর করে এবং এলাকার এ মসজিদের সামনে গিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেয়। তারপর একের পর এক গাড়িতে, দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে আক্রান্ত হয়েছেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বহু সাধারণ মানুষও। ঘটনার পরেই স্থানীয় প্রশাসন কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে। এলাকায় ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। সূত্রের খবর, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে একজন ইমাম এবং দুই হোমগার্ড-সহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত দুই হোমগার্ডের নাম নীরজ ও গুরুসেবক। এছাড়া অন্যান্য দুই মৃতের মধ্যে রয়েছেন নুহ শহরের দোকানদার শক্তি এবং পানিপথের বাসিন্দা অভিষেক। সূত্রের খবর, তাঁরা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। আর ওই ইমামের নাম মহম্মদ শাদ। তিনি গুরুগ্রাম সেক্টর ৫৭ এলাকার একটি মসজিদের ইমাম।


More Stories
আবার বাড়ল পেট্রোল, ডিজেলের দাম
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?