Home » ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় প্রথম রিপোর্ট পেশ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির

ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় প্রথম রিপোর্ট পেশ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ অগস্ট:  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তদন্ত যতই এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূতে হচ্ছে রহস্য। ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় প্রথম রিপোর্ট জমা করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট মারফত জানা গিয়েছে, গত ৯ আগস্ট রাতে রাগিংয়েরই শিকার হয়েছিলেন প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়া। আগামী সপ্তাহেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়বে বলেই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে,এই ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে শুক্রবার থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এদিন থানায় রেজিস্ট্রার জানান, ‘ আমাকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়নি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে রিপোর্ট চেয়েছি। পুলিশের কাছে তা পাঠিয়ে দেব।’

আরও পড়ুন    যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় জোড়া মিছিল যুবমোর্চা ও এবিভিপির, ধুন্ধুমার কাণ্ড কলকাতার রাজপথে

প্রসঙ্গত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবারই হস্টেলে থাকা আরও ৫ পড়ুয়াকে তলব করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ৯ আগস্ট রাতে হস্টেলে যখন মৃত ওই ছাত্রের ওপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করা হয়, সেসময় এই পাঁচ পড়ুয়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কার্যত সেকারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ৫ জনকে তলব করা হয়েছে।ইতিমধ্যেই দুই আবাসিকের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে,  ৯ তারিখ হস্টেলের বারান্দা থেকে খুব চিৎকার শোনা গিয়েছিল। এতকিছুর পরও হস্টেল কতৃপক্ষ কেন কিছুই জানতে পারেননি,, তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সবটা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।  এদিকে, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বুধবার  তিন অভিযুক্তকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত। জানা গিয়েছে, যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল সৌরভ চৌধুরীই। গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের এ২ ব্লকের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়ার। যা নিয়ে তোলপাড় গোটা ক্যাম্পাস। মৃতের পরিবার, থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে আসে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। এই ঘটনার পিছনে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল।

এসবের মাঝেই যাদবপুরে প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে পথে নামল এবিভিপি। যাদবপুর কান্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিল এবিভিপি।  এদিন দুপুর দুটো নাগাদ মিছিল শুরু হয় গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে থেকে। তবে, এদিনের এই মিছিলে পুলিশের অনুমতি না থাকায় মিছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের পৌঁছানোর আগেই যাদবপুর থানার পুলিশ এই মিছিলে বাঁধা দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এবিভিপির বেশ কিছু কর্মী সমর্থক রাস্তায় শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরপর যাদবপুর থানার পুলিশ তাদেরকে  বাসে তোলেন। এই ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয় যান চলাচল।  চরম বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

About Post Author