সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ সেপ্টেম্বর: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। তদন্ত যতই এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূতে হচ্ছে রহস্য। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ইউজিসির অনেক নিয়মই মানেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, এমন অভিযোগও উঠেছে। এহেন পরিস্থিতিতে এবার ইউজিসির চার প্রতিনিধি দল আসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গত ১৩ আগস্ট যাবতীয় রিপোর্ট চেয়েছিল ইউজিসি। ১৪ আগস্ট সেই রিপোর্ট পাঠায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওই রিপোর্টে ‘সন্তুষ্ট’ হয়নি ইউজিসি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের যে প্রতিনিধি দলের আসার কথা ছিল, তা আসছে না। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফের ১২টি প্রশ্নের উত্তর চেয়ে পাঠানো হয়। পরে সেই রিপোর্ট তথ্য সহ পাঠানো হয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট দেখেও অসন্তোষ প্রকাশ করে ইউজিসি। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পর এই প্রথম ইউজিসি কোনও টিম পাঠাচ্ছে যাদবপুরে। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইউজিসির চার প্রতিনিধি মুখোমুখি বসে কথা বলতে চায়। এছাড়াও ইউজিসির প্রতিনিধিরা বাকি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলেই জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, যাদবপুরে র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ‘স্টেক হোল্ডার’দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ। সেই বৈঠকের পরেই মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তোলেন যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য। পড়ুয়াদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন না করার আর্জি জানাতে বাধ্য করা হয় উপাচার্যকে। উপাচার্য বলেন,‘আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। পড়ুয়াদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কীভাবে উপাচার্য এমন কথা বললেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা মহলের একাংশ। এদিনের বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং রুখতে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেটা অল স্টেক হোল্ডার বৈঠকে নিতে হবে। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কোথায় সিসিটিভি বসবে সেটাও ছাত্র সংগঠনকে জানাতে হবে। ইতিমধ্যেই যাদবপুর ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর খরচ বাবদ প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করতে চলেছে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর।
আরও পড়ুন মুম্বইয়ের পর এবার ভোপালে বসতে চলছে ইন্ডিয়া জোটের মেগা বৈঠক
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন গোটা বিষয়টি অর্থ দপ্তরের বিচারাধীন ছিল। শেষমেশ সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অর্থ দপ্তর সবুজ সংকেত দেওয়ায় এই অর্থ বরাদ্দে কোনও বাধা রইল না। অর্থ দপ্তর সূত্রের খবর, মৌখিকভাবে শিক্ষা দপ্তরকে অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্ম মিটলেই সিসিটিভি বসানোর জন্য বরাদ্দ টাকা সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কাজ কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। ইউজিসির গাইডলাইন অনুযায়ী কেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেলে সিসি ক্যামেরা নেই, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কার্যত সেকারণেই ক্যাম্পাস ও হস্টেল সিসি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বুদ্ধদেব সাউ যাদবপুরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা