Home » যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির

যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ সেপ্টেম্বর: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। তদন্ত যতই এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূতে হচ্ছে রহস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের পর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করেছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। সেই রিপোর্টেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন ছাত্রকে পুরোপুরি বহিষ্কার করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি হস্টেলে থাকা ২৫ জন প্রাক্তনীকেও হস্টেল ছাড়তে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ১৪০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। সমস্ত বয়ানের ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। এমনকী লিখিতভাবেও উত্তর জমা নেওয়া হয়েছে। এই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া যে সমস্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে র্যা গিংয়ের অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে কমিটির তরফে। এর পাশাপাশি র্যা গিং-এ অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন ছাত্রকে সেমিস্টারের জন্য সাসপেন্ড করার কথাও বলা হয়েছে ওই রিপোর্টে।

ইতিমধ্যেই পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে যে ইউজিসির অনেক নিয়মই মানেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এহেন পরিস্থিতিতে এবার ইউজিসির চার প্রতিনিধি দল আসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গত ১৩ আগস্ট যাবতীয় রিপোর্ট চেয়েছিল ইউজিসি। ১৪ আগস্ট সেই রিপোর্ট পাঠায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওই রিপোর্টে ‘সন্তুষ্ট’ হয়নি ইউজিসি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের যে প্রতিনিধি দলের আসার কথা ছিল, তা আসছে না। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফের ১২টি প্রশ্নের উত্তর চেয়ে পাঠানো হয়। পরে সেই রিপোর্ট তথ্য সহ পাঠানো হয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট দেখেও অসন্তোষ প্রকাশ করে ইউজিসি। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পর এই প্রথম ইউজিসি কোনও টিম পাঠাচ্ছে যাদবপুরে। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইউজিসির চার প্রতিনিধি মুখোমুখি বসে কথা বলতে চায়। এছাড়াও ইউজিসির প্রতিনিধিরা বাকি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলেই জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন        ইস্টবেঙ্গলে কি আসবেন প্যালেস্টাইনের সেন্টার ব্যাক!

উল্লেখ্য, যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা থেকে খালি মদের বোতল ও মাদক ব্যবহারের সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এই অবস্থায় ইউজিসির গাইডলাইন অনুযায়ী কেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেলে সিসি ক্যামেরা নেই, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কার্যত সেকারণেই ক্যাম্পাস ও হস্টেল সিসি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বুদ্ধদেব সাউ যাদবপুরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেল মিলিয়ে ১০ জায়গায় মোট ২৬টি সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ সিসিটিভি লাগানোর বিরোধিতায় সরব হয়েছে। গত মঙ্গলবারই সিসিটিভি বসানো নিয়ে ছাত্র ঘেরাওয়ের মুখে পড়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ।

About Post Author