স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৩ অক্টোবর: এএফসি কাপের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় মোহনবাগানের। ঘরের মাঠে মোহনবাগান হারাল মালদ্বীপের ক্লাব মাজিয়া এসআরসিকে। মোহনবাগানের হয়ে জোড়া গোল করলেন জেসন কামিংস। যদিও একটি পেনাল্টি নষ্ট করেন অজি বিশ্বকাপার কামিংস।

নিজে শট না মেরে কেন স্বদেশীয় পেত্রাতোসকে পাস দিলেন? তিনি কি চেয়েছিলেন মোহনবাগানের মেসি হতে? যাঁর বিরুদ্ধে গত বিশ্বকাপে খেলেছেন। জেসন কামিংসের পেনাল্টি নষ্ট নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে একটি দল কতটা আত্মবিশ্বাসী হলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারে। আসলে মোহনবাগান দলটি এই মরশুমে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। এফসি কাপে বিদেশীর সংখ্যায় সীমাবদ্ধতা নেই। তাই সোমবার ছয় বিদেশী নিয়ে শুরু করেন মোহন কোচ জুয়ান ফেরান্দো। ঘরের মাঠে শুরু থেকে আক্রমণ করতে থাকে মোহনবাগান। প্রথম ইতিবাচক আক্রমণটি হয় ম্যাচের ১৩ মিনিটে। পেত্রাতোসের কর্ণার হেড করে নামিয়ে দেন কামিংস। যদিও বল জালে জড়াতে পারেননি ব্র্যান্ডন হামিল। ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টায় একের পর এক কর্ণার আদায় করে নেয় মোহনবাগান। যদিও কাজে লাগাতে পারেনি। প্রথম গোলের জন্য মোহনবাগানকে অপেক্ষা করতে হয় ২৮ মিনিট পর্যন্ত। হুগো বুমোর পাস ধরে মজিয়ার একজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে মাটি ঘেঁষা শট নেন কামিংস। মাজিয়া গোলরক্ষক চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি। এরপর গোলের ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মোহন শিবির। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে মোহনবাগান রক্ষণের ভুলে অনেকটা অরক্ষিত জায়গায় বল পেয়ে যায় মাজিয়া। তবে কোনওমতে পরিস্থিতির সামাল দেন হামিল। ৪০ মিনিট বক্সের মধ্যে সদিকুকে বাঁধা দেন এক মাজিয়া ডিফেন্ডার। পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। তবে মেসি-সুয়ারেজের অনুকরণ করতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট হয়। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে সমতা ফেরায় নাজিয়া। বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করেন জাপানি মিডফিল্ডার ওয়াদা। বিশাল বলটি বাঁচানোর সুযোগই পাননি। প্রথমার্ধে ১-১ গোলে অমীমাংসিত রেখে বিরতিতে জন দুই দলের ফুটবলাররা।

আরও পড়ুন: লক্ষ্য এএফসি কাপ, প্রতিপক্ষ মাজিয়া নিয়ে সতর্ক মোহনবাগান কোচ
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ফের আক্রমণের তীক্ষ্ণতা বাড়ায় মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধের ৪ মিনিটের পরপর দুটি সেভ করেন মাজিয়া গোলরক্ষক হুসেন শরিফ। প্রথম শটটি মেরেছিলেন সাদিকু। দ্বিতীয় শটটি মারেন কামিংস। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে দুই দলের দুই অভিজ্ঞ কোচ কয়েকটি পরিবর্তন করেন। মোহনবাগান ৭০ মিনিটের মধ্যে ১৫ টি কর্ণার আদায় করে নিলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। একা মাজিয়া দুর্গ রক্ষা করলেন গোলরক্ষক হুসেন শরিফ। ৭৯ মিনিটে মানবীরের শট যে দক্ষতায় বাঁচালেন তিনি, কোনও প্রশংসা তার জন্য যথেষ্ট নয়। ম্যাচের ফয়সলা না হলে হুসেন এই ম্যাচের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হতেন। তবে প্রথমরার্ধে করা ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপার। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময়ে সাহালের পাস ধরে পরাস্ত করলেন হুসেনকে।কামিংসের গোলেই ৩ পয়েন্ট পেয়ে মাঠ ছাড়ে মোহনবাগান।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার