সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ ফেব্রুয়ারি: প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের ছেলে শৌভিক ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই জেলে ছিলেন মানিক পুত্র শৌভিক। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে স্পেশাল কোর্ট এবং হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন শৌভিক। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, আদালতের তরফে কোনও নির্দেশ ছাড়াই শৌভিক ভট্টাচার্যকে সমন পাঠানো হয়েছিল। তিনি নিজে থেকে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। শুক্রবার বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদির এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানেই জামিন পান মানিক পুত্র শৌভিক ভট্টাচার্য।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রাথমিক শিক্ষা পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছিলেন ইডি। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর এর আগেও জামিনের আরজি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মানিক। তবে, এই তদন্ত শেষ করার জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে সময় বেঁধে দিয়েছিল আদালত। কেননা বিচারাধীন অবস্থায় জামিন মঞ্জুর হলে তার প্রভাব তদন্তের ওপর পড়তে পারে বলেই মনে করছে আদালত। কার্যত সেই কারণেই এদিন মানিক ভট্টাচার্যের জামিন মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়। প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই তদন্তে নেমে মানিকের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পান ইডি। এরপরই নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ায় মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য এবং ছেলে শৌভিক ভট্টাচার্যের।
এরপর ২০২৩-এর ২২ ফেব্রুয়ারি ব্যাঙ্কশাল আদালতে আত্মসমপর্ণও করেন মানিকের স্ত্রী ও পুত্র। জানা গিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০বার বিদেশ সফরে গিয়েছে মানিক ভট্টাচার্যের পরিবার। বিদেশ সফরের তালিকায় ফ্রান্স, নাইজেরিয়া, মালদ্বীপ, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামের মতো একাধিক দেশ রয়েছে। প্রতিটি সফরে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। নিয়োগ দুর্নীতির টাকাতেই কি বিদেশ সফর? সেসব কিছু জানতেই তদন্ত শুরু করে ইডি-র আধিকারিকরা। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, শৌভিক ভট্টাচার্য বেশ কয়েকবার লন্ডন যাত্রা করেছেন। কিন্তু,২০১৭ সালের মে এবং জুলাই মাসে দু’বার লন্ডন যাত্রা করলেও সেই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করে গিয়েছেন তিনি। যা পরবর্তীতে ইডি-র তদন্তে উঠে আসে। অন্যদিকে, মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছিল ইডি-র তরফে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গেই জড়িত ছিলেন তাঁর স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক তথ্য মানিকের স্ত্রীর কাছে রয়েছে।


More Stories
আকে লোবা কি ইস্টবেঙ্গলের সর্বকালের সবচেয়ে দামি প্লেয়ার?
গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনালে প্রজ্ঞানন্দ
চোখের রায়, বিদেশযাত্রার অনুমতি