সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারি: কেন্দ্রের প্রস্তাব মানল না কৃষকরা। বুধবার থেকে ফের ‘দিল্লি চলো’-র ডাক কৃষকদের বিভিন্ন সংগঠনের। কৃষকদের জন্য পেনশন, ফসলের জন্য ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের গ্যারান্টি দেওয়ার আইন, শস্যবিভাগ এবং তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের দাবিতে ফের দিল্লি চলো ডাক দিয়েছে পাঞ্জাব হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্যের কৃষকেরা। ইতিমধ্যেই কৃষকরা জানিয়েছেন, সরকারের দেওয়া প্রস্তাবে তাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। কার্যত সে কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব এসেছে, তা খারিজ করেছে কৃষকেরা। ফলে বুধবার থেকে দিল্লির সীমান্ত এলাকাগুলিতে কৃষকদের বিক্ষোভ শুরু হবে। তবে, সীমান্ত এলাকায় দিল্লি পুলিশ যে ব্যারিকেড তৈরি করেছে তা ভাঙার কোন পরিকল্পনা নেই কৃষকদের। রবিবার কেন্দ্র ও কৃষকদের মধ্যে চতুর্থ দফা আলোচনা হয়। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পুরনো ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে শুধুমাত্র ডাল, ভুট্টা এবং তুলা কেনার নিশ্চয়তা দিতে চাওয়া হয়েছিল। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই ব্যবস্থা চালু রাখার প্রস্তাবও দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু কৃষকরা কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আরও পড়ুন চোপড়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রাজ্যপাল বোস, বিএসএফের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন গ্রামবাসীরা
উল্লেখ্য, কৃষকদের জন্য পেনশন, ফসলের জন্য ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের গ্যারান্টি দেওয়ার আইন, শস্যবিমা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের দাবিতে এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘দিল্লি চলো’র ডাক দিয়েছিল পঞ্জাব, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্যের কৃষকেরা। কিষান মজদুর মোর্চা-সহ ২০০টিরও বেশি কৃষক সংগঠন এই আন্দোলনে শামিল হয়। সকাল থেকেই জড়ো হতে শুরু করেছেন কৃষকরা। কৃষক আন্দোলনের আঁচ রাজধানীতে যাতে না পড়ে, সেই কারণে গোটা রাজ্যজুড়ে জারি হয়েছিল ১৪৪ ধারা।অন্যদিকে, কৃষকদের ‘দিল্লিচলো’ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল হরিয়ানা সরকার। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১৩ তারিখ রাত পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল। তবে, ভয়েস কলের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। চণ্ডীগড় থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্যও বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কৃষকদের মিছিল রুখতে হরিয়ানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড বসানো হয়। অতিরিক্ত ৫০ কোম্পানি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা যাতে অন্যান্য জেলা থেকে হরিয়ানায় ঢুকতে না পারে, কার্যত সেই কারণেই রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে আন্দোলনকারী কৃষকরা কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছে মোদি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে। সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলিও কৃষকদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এর আগে ২০২০ সালে কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে লাগাতার আন্দোলন চলেছে। সেই আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছিল মোদি সরকার। ‘বিতর্কিত’ কৃষি বিল প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নয়ডা এবং গ্রেটার নয়ডার প্রায় ১০০ গ্রামের হাজার হাজার কৃষক সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত জমির জন্য ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামেন। কৃষকরা এক বছরেরও বেশি সয়ম ধরে দিল্লি তিন সীমানায় বসে লাগাতার আন্দোলন চালিয়েছিলেন কৃষকরা। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁরা তিন কৃষক আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করিয়েছিলেন। এই তিন আইনকে ‘কালা কানুন’ নামে আখ্যায়িত করেছিলেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি ক্ষমা চাওয়ায় তাঁরা আন্দোলন তুলে নিলেও সেই সময় কৃষকরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন শেষ হয়নি আন্দোলন।


More Stories
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!
প্রাকৃতিক বিপর্যয় : লাইফলাইন এনএইচ ৭১৭