Home » দীর্ঘ জটিলতার অবসান! গৃহীত হল তাপস রায়ের ইস্তফাপত্র

দীর্ঘ জটিলতার অবসান! গৃহীত হল তাপস রায়ের ইস্তফাপত্র

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ মার্চঃ দীর্ঘ জটিলতার অবসান। শেষমেশ গৃহীত হল তাপস রায়ের ইস্তফাপত্র। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফের বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। এরপর স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তা গ্রহণ করেছেন। এদিন বিধানসভা থেকে বেরিয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের জন্য শুভেচ্ছো প্রার্থনা করেন বিজেপি নেতা। যদিও বিধানসভার স্পিকারের কাছে গত সোমবারই ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন তাপস রায়। নিয়ম অনুয়ায়ী সেই ইস্তফাপত্র খতিয়ে দেখার পর শুনানি হয়। বুধবার সেই শুনানিতে জানানো হয়, পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে ইস্তফাপত্রে। এরপরই তাপসকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার নতুন করে ইস্তফাপত্র দিতে। সেই ইস্তফাপত্রই এদিন গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন   East Bengal: এফসি গোয়ার বিরুদ্ধেও হার ইস্টবেঙ্গলের, আরব সাগরের পার থেকে খালি হাতেই ফিরছে লালহলুদ

উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রতি একরাশ অভিমান নিয়ে সোমবারই দল ছেড়েছেন তাপস রায়। সোমবার বিধানসভায় পৌঁছে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দেন ইস্তফা পত্র। পাশাপাশি দলের সমস্ত পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেন। লোকসভা ভোটের আগে তাঁর এই দলত্যাগ নিঃসন্দেহে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন বিধানসভা যাওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন দলের বিরুদ্ধে। তাপস রায় সাংবাদিকদের জানান, দলের দুর্নীতি এবং সন্দেশখালির ঘটনার পর থেকে মুখ দেখাতে পারছি না। শাহজাহানকে নিয়ে দল এবং শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিবাদ করলেও তাঁর সম্পর্কে একটি কথাও কেউ বলেননি।

একইসঙ্গে তাঁর বাড়িতে ইডি অভিযান নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অভিমান জানিয়ে বরানগরের বিধায়ক বলেন, ‘ ইডি অভিযানে বিধ্বস্ত আমি ও আমার পরিবার। আমারও স্ত্রী-পুত্র রয়েছে। আজ ৫২ দিন দল আমার পাশে দাঁড়ায়নি। কেউ ফোন করে আমার পরিরবারের কাউকে সমবেদনা জানায়নি। অনেকে আমায় বলেছে, এর পেছনে দলেরই কেউ কেউ আছে। যখন আমার বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযান চলছে, তখন তাদের মধ্যে আনন্দ দেখা যায়। এগুলো হৃদয়কে নাড়াচাড়া করে। ব্রাত্য আর কুণাল বোঝাতে এসেছিল আমায়। তখনই কুণালের কাছে সুব্রত বক্সির শোকজ নোটিশ এসেছে। এই হচ্ছে দল। তৃণমূলে আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। দলের একাধিক বিষয়ে আমি আহত হয়েছি, কষ্ট পেয়েছি। সন্দেশখালি থেকে শুরু করে একাধিক দুর্নীতি – নানা বিষয়ে আমার খারাপ লেগেছে। আর যাই হোক, এই দলে থাকা যায় না। তাই আমি বিধায়ক পদ এবং দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলাম।’ প্রসঙ্গত, কলকাতা উত্তরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার টিকিট দেওয়ার বিরোধিতা করেন বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়। তারপর থেকেই তাঁর দলত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে দলের অন্দরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। এমনকী বিগত কিছুদিন ধরেই দলীয় কর্মসূচিতেও দেখা যাচ্ছিল না তাপস রায়কে। তবে, তাপস রায় বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন সেই জল্পনা রবিবার রাত থেকে আরও বেড়ে যায়। সেই অনুমানই সত্যি হল।

About Post Author