Home » বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড গুজরাটে গেমিং জ়োনে, আগুনে ঝলসে মৃত্যু ১২ জন শিশু-সহ ৩২ জনের

বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড গুজরাটে গেমিং জ়োনে, আগুনে ঝলসে মৃত্যু ১২ জন শিশু-সহ ৩২ জনের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ মেঃ বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড গুজরাটে একটি গেমিং জ়োনে। শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ গুজরাটের রাজকোটের ওই গেমিং জোনে আগুন লাগে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন শিশুও রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। গেমিং জ়োন হওয়ার কারণে সেখানে শিশুদের ভিড়ই ছিল বেশি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে সেখানে। জানা গিয়েছে, গুজরাটের রাজকোটের ওই গেমিং জ়োনে ৯৯ টাকার অফারে সপ্তাহান্তে উপচে পড়া ভিড় ছিল। এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ আচমকাই গেমিং জ়োনের একটি অস্থায়ী অংশের ফাইবার ডোমে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তা বিধ্বংসী রূপ নেয়। গেমিং জোনে জেনারেটরের জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ লিটার ডিজেল মজুত ছিল। সেই দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণেই আগুনের লেনিনহান শিখা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। কার্যত পুড়ে ছারখার হয়ে যায় গেমিন জোনটি।

আরও পড়ুন  Child Death in Fire: পূর্ব দিল্লির শিশু হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড , মর্মান্তিক মৃত্যু ৭ নবজাতকের

জানা গিয়েছে, গেমিং জোন থেকে বের হওয়ার পথ ছিল সরু। গেমিং জোনে ঢোকা ও বেরোনোর জন্য মাত্র ৬ থেকে ৭ ফুট চওড়া একটিই মাত্র পথই ছিল। কার্যত সেকারণেই অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে পড়ে। এর নীচেই চাপা পড়ে যান বহু মানুষ। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় কমপক্ষে ৩২ জনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছে ১২ জন শিশুও। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাঠামো সরিয়ে দেহ উদ্ধারের কাজে হাত লাগায় দমকল আধিকারিকরা। দেহগুলি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলেই জানিয়েছে পুলিশ। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে সেখানে। ইতিমধ্যেই আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গেমিং জ়োনের মালিক মালিক যুবরাজ সিং সোলাঙ্কি, টিআরপি গেম জোনের ম্যানেজার নিতিন জৈন-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গেমিং জ়োনের মালিকের বিরুদ্ধে গাফিলতি এবং অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় সিনিয়র আইপিএস অফিসার সুভাষ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি সিট গঠন করেছে সরকার।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে, এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ইতিমধ্যেই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল আহতদের জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।

About Post Author