Home » ধর্মগুরু রজনীশ বা ওশো : অবাধ যৌনতার তত্ত্ব

ধর্মগুরু রজনীশ বা ওশো : অবাধ যৌনতার তত্ত্ব

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা , ৪ জুলাই : রাজশেখর বসু বা পরশুরামের লেখা বিরিঞ্চিবাবা অনেকেই পড়েছেন। এই গল্প চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তুলেছিলেন সত্যজিৎ রায়। বিরিঞ্চিবাবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ঢঙ্গী বাবাদের প্রতিনিধি। এরকম মুখ এদেশে খুব কম নেই। এই ধর্মগুরু বা বাবাদের আখড়া যেন অনিয়ম আর ব্যভিচারের আঁতুড় ঘর। এঁদের ভক্ত কম নেই তবুও বারবার আইন ভেঙে আইনের বেড়াজালে পড়েছেন তাঁরা। রামরহিমবাবা হোক বা হালে বহুল চর্চিত ভোলে বাবার কথা বলতে গিয়ে কোথাও যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন ধর্মগুরু রজনীশ বা ওশো।

প্রচলিত ধর্মগুরু বা ঢঙ্গীবাবাদের সঙ্গে যদিও তাঁকে মেলানো সম্ভব নয় তবুও গডম্যান বা ধর্মগুরু রজনীশের কথা না বললেই নয়। যৌন মিলনের দ্বারাই একমাত্র মোক্ষলাভ সম্ভব – এই তত্ত্বের  প্রবর্তক ছিলেন মধ্যপ্রদেশের চন্দ্র মোহন জৈন যাকে বিশ্ব চেনে রজনীশ বা ওশো নামে। ১৯৩১ সালে জন্ম তাঁর। ১৯৯০ সালে তার মৃত্যু ও রহস্যে ঢাকা। ১৯৭০ থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি তাঁর যৌনতার মাধ্যমে মুক্তি এই তত্ত্বে সমস্ত ধর্মের মূলে কুঠারাঘাত করতে চেয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে আমেরিকা গিয়ে তিনি আশ্রম গড়ে তুলেছিলেন যা অবাধ যৌন মিলনের আখড়া হয়ে ওঠে। তার অন্য দুটি মতাদর্শ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি গর্ভপাতকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তাঁর মত তুলে ধরেন । প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার দেওয়ার দাবি তোলেন। ১৯৮৬ সালে আবার দেশে ফেরেন তিনি।তাঁর প্রচারিত ও প্রচলিত ধ্যান ধারণা একদিকে রেখেও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু তিনি হয়ে উঠেছিলেন । ইমিগ্রেশন ফ্রড বা অভিবাসন জালিয়াতিতে তিনি অভিযুক্ত হন। মার্কিন দেশে তার বিরুদ্ধে এবং তার আশ্রমের অবৈধ কার্যকলাপের তদন্ত করার জন্য কমিটি গড়ে ওঠে। তার আশ্রমিক যাদের রজনিশি বলা হত তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন স্টেট অ্যাটর্নি চার্লস টার্নারকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ,রজনিশের প্রধান সহযোগী শীলা সিলভারম্যান (মা আনন্দ শীলা ) ছিলেন এই ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড। সবমিলিয়ে, আন্তর্জাতিকভাবে রজনীশ অদ্বিতীয় বিতর্কিত ধর্মগুরু হয়েই আশ্চর্য ইতিহাসের রচয়িতা।

আরও পড়ুন গুরু না ভজিলে…! ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরুদের কীর্তি!

About Post Author