Home » প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪ প্রভাব ফেলেছে যৌনকর্মীদের জীবন – জীবিকায়

প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪ প্রভাব ফেলেছে যৌনকর্মীদের জীবন – জীবিকায়

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ আগস্ট : উদ্বোধন থেকে ধরলে ইতিমধ্যেই সাতদিন কেটে গিয়েছে। প্যারিস অলিম্পিক 2024 শুরু হয়েছে ২৬ জুলাই। তবুও এখনও বেশ কিছুটা বাকি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া উৎসব শেষ হতে । প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধন হয়েছিল সাড়ম্বরে। অথচ বিশ্বের বাকি অংশে সম্প্রচারিত হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের  উচ্ছ্বসিত পরিবেশনা থেকে দূরে, প্যারিসের কিছু শান্ত রাস্তা পুলিশে ভরা। পাশাপাশি, জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ থেকে আরও দূরে থাকা যৌন কর্মীদের জীবন তবুও অশান্ত হয়ে উঠেছে। তাঁরা যেন ভিনগ্রহের বাসিন্দা হয়ে উঠেছেন। যৌনকর্মীদের জীবন – জীবিকায়  প্রভাব পড়েছে অপরিসীম।

প্যারিস অলিম্পিকের আগের মাসগুলিতে, ফরাসি কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ উঠছে। বলা হচ্ছে ‘সামাজিক পরিচ্ছন্নতার’ নামে – একটি নীতি গৃহীত হয়েছে যার আওতায় পড়েছে প্যারিসে গৃহহীন মানুষ, অভিবাসী এবং যৌনকর্মীরা। এরা উচ্ছেদ এবং ভারী হাতে দমননীতি নেওয়া পুলিশিংয়ের সম্মুখীন।

ফেডারেশন প্যারাপ্লুই রুজ (রেড আমব্রেলা ফেডারেশন) -এর সমন্বয়কারী বার্থ দে লাওন, যৌনকর্মী সংস্থাগুলির একটি সমষ্টি , বলেছে যে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের সাথে পুলিশি দমন-পীড়ন বেড়েই চলেছে। বক্তব্য , এদের ৮০ শতাংশ ফ্রান্সের রাস্তায়-ভিড় করে থাকা যৌনকর্মীরা – যারা এই প্রাথমিক দমন পীড়নের প্রাথমিক টার্গেট । ডি লাওন দাবি করেছে যে, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি আইডি চেক করা হয়েছে, যেখানে “বড় সংখ্যক” যৌনকর্মীকে প্রশাসনিক হেফাজত কেন্দ্রে আটক রাখা হয়েছে এবং OQTF (obligation de quitter le territoire français) অনুযায়ী , দেশ ছেড়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে।

ক্রীড়া উৎসবের মুখর তিথিতে যৌনকর্মীরা বেঘর, বেহাল। Bois de Boulogne এবং Bois de Vincennes –  যা কিনা পাবলিক পার্ক এবং যৌনকর্মের আতুরঘর ও চারণভূমি বলে চিহ্নিত  সেখানে আদিম পেশা যেন রাতারাতি মুছে গিয়েছে। পাশাপাশি, প্যারিসের বেলেভিল এলাকাও রেড লাইট জোন হিসাবে পরিচিত, সেখানেও যৌন ব্যবসা স্তব্ধ। চীনা যৌনকর্মীদের একটি বড় অংশ দাবি করেছে, তাঁরা গত কয়েক মাসে বিশেষ হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন। “সম্প্রতি, পুলিশ তাদের অ্যাপার্টমেন্টে তাদের অনুসরণ করছে এবং মালিকের কাছে তাদের সম্পর্কে নিন্দা তো করছেই, উপরন্ত তাদের ভয় দেখানোর কঠোর চেষ্টা করছে,” তারা ব্যাখ্যা হিসেবে জানিয়েছে।” ফ্রান্সের আইন অনুসারে, এরকম করা যায় কিনা সে প্রশ্ন উঠছে। অন্য বিতর্ক যাই থাকুক,  যৌনকর্মীদের জীবন – জীবিকায়  থাবা নিয়ে বিতর্ক নেই।

সবমিলিয়ে, বিগত ৭ -১৫দিনে বিরাট অথচ ফ্রান্সের রাস্তায় রাস্তায় যৌনকর্মীদের আর সে দিন নেই। স্তব্ধ জীবন -জীবিকা। অলিম্পিক ভিলেজে হাসিমুখে ফানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা ঘুরছেন, ছবি তুলছেন হাসি নেই যৌনকর্মীদের মুখে।।

আরও পড়ুন Paris Olympics 2024 : প্যারিসে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, অলিম্পিক্সে জোড়া পদক জিতে প্রিচার্ডকে ছুঁলেন মনু

About Post Author