Home » Birbhum Witch Hunting: ডাইনি অপবাদে পিটিয়ে খুন দুই মহিলাকে, মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী এবার বীরভূম

Birbhum Witch Hunting: ডাইনি অপবাদে পিটিয়ে খুন দুই মহিলাকে, মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী এবার বীরভূম

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ সেপ্টেম্বর: আজকের ডিজিটাল যুগে  দাঁড়িয়েও কুসংস্কার আচ্ছন্ন বর্বরতার শিকার বীরভূমের দুই মহিলা। ডাইনি সন্দেহে তাঁদের পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে দুই মহিলাকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে আনা হয়। তারপর দড়ি দিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধরের সঙ্গে অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার এলাকার এক নালা থেকে তাঁদের মৃত দেহ পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ছ’জন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সেই পাশবিক অত্যাচারের ভিডিও।

আরও পড়ুন    আরজিকর-সহ রাজ্যের সব হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা মমতার

রাজ্যে এই প্রথম নয়। অতীতেও এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার উদাহরণ রয়েছে । ঝাড়গ্রামে ডাইনি সন্দেহে এক বৃদ্ধাকে গলা কেটে খুন করা হয়েছিল। ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছিল ঝাড়গ্রাম জেলা আদালত। এদিন আবার সেই বর্বরতার পুনরাবৃত্তি। বীরভূমের ময়ূরেশ্বর থানার হরিসরা গ্রামের আদিবাসী পাড়ায় দুই মহিলাকে ডাইনি সন্দেহে খুন করা হল। তাদের নাম লোদগি কিসকো এবং ডলি সোরেন। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে গ্রামের লোকজন একজোটে তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করে। টানতে টানতে বাড়ি থেকে বার করা হয় দুই মহিলাকে। দড়ি দিয়ে বাঁধা হয় খুঁটির সঙ্গে। তার পর গ্রামের সকলে মিলে তাঁদের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পাশাপাশি উঠেছে ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাতের অভিযোগ। ঘটনা সামনে আসতেই ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ বাহিনী পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে। শুরু করে তদন্ত। গ্রাম সংলগ্ন সেচ নালা থেকে দুই মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দু’টি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় সঙ্গে যুক্ত ছ’জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। গ্রামে এখনও ছড়িয়ে রয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ।


দুই মহিলার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অপরাধীরা তাদের বাড়ি গিয়ে ভয় দেখিয়ে এসেছিল যাতে পুলিশে খবর না দেওয়া হয়। এক মৃতার কন্যার দাবি, ‘‘আমাদের মাকে যাঁরা এ ভাবে কষ্ট দিয়ে মারল, আমরা তাঁদের ফাঁসি চাই। এখন ওরা যাতে আমাদের ক্ষতি করতে না পারে, সেই নিরাপত্তাও চাইছি।’’ অপরদিকে এই ঘটনার এক ধৃত লক্ষীরাম। তার স্ত্রী সুরমিলা মাড্ডি জানিয়েছেন, ‘‘ঘটনার সময় আমার স্বামী ঘুমাচ্ছিলেন, উনি কিছুই জানতেন না। ওরা আমার ছেলে ও স্বামীকে তুকতাক করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। এদিন আমার ছেলে অজ্ঞান হয়ে পড়ায় আমরা গিয়ে শুধু চড় মেরেছিলাম, তারপর গ্রামের সবাই মিলে শাস্তি দিয়েছে।”

#BirbhumWitchHunting  #witchslander #Latestbengalinews #RampurhatMedicalCollegeHospital 

About Post Author