সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ সেপ্টেম্বরঃ নিম্নচাপের জেরে টানা তিন দিন আকাশের মুখ ছিল ভার, কার্যত সূর্যের দেখাই মেলেনি। টানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়েছে রাজ্যের একাধিক অঞ্চল। মঙ্গলবার সকাল থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হলেও নতুন করে জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ঝাড়খন্ড সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায়। টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। দুর্গাপুর, আসানসোল, বীরভূম , পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা বিগত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছিল। প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে ঝাড়খন্ডেও। ফলে ডিভিসির মূল দুটি জলাধার মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধের উপর জলের চাপ ক্রমশ বেড়েছে। জলের চাপ বাড়ার কারণে দুই ব্যারেজ থেকে সম্ভার সন্ধ্যায় জল ছেড়েছিল ডিভিসি। বন্যার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন ছিল রাজ্যকে না জানিয়ে নতুন করে জল যেন না ছাড়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি উড়িয়ে মঙ্গলবার সকালেও দুই জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণে জল ছাড়ল ডিভিসি।
আরও পড়ুন আরজিকর মামলার শুনানি লাইভ সম্প্রচার না করার আর্জি কপিল সিব্বলের
সোমবার এবং মঙ্গলবার মিলিয়ে দুই জলাধার থেকে জল ছাড়া হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজার কিউসেক জল। মঙ্গলবার নতুন করে ছাড়া হয়েছে ৭০ হাজার কিউসেক জল। ডিভিসির দুই জলধার থেকে প্রায় দেড় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ায় প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ঝাড়খন্ড সংলগ্ন আসানসোল দুর্গাপুর বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন অংশে। কারণ দুই ব্যারেজ থেকেই জল দামোদর নদ হয়ে পশ্চিম বর্ধমানের দামোদর ব্যারেজে পৌঁছাচ্ছে। ফলে দামোদর ব্যারেজের জলের চাপ ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকেও জল ছাড়া সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদি দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হয় তাহলে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে হাওড়া, হুগলি, আরামবাগ এবং বর্ধমানের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হতে পারে। ইতিমধ্যে আসানসোল, দুর্গাপুর এবং রানীগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত ভেঙে পড়েছে বহু মাটির বাড়ি। বাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির।

এদিকে, ঝাড়খন্ড সংলগ্ন বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ। আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হলেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। সেক্ষেত্রে বৃষ্টিপাত যদি হয় আবার হয়তো জল ছাড়া হতে পারে ডিভিসির দুটি ব্যারেজ মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে। জল ছাড়া হতে পারে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকেও। ফলে নতুন করে আবার প্লাবনের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে প্লাবিত অঞ্চল নিয়েও আতঙ্কিত রাজ্য সরকার। শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। এখন দেখার পূজোর প্রাক্কালে প্রকৃতি কি রূপ ধারণ করে?
#DVCReleasesWater #MaithonandPanchetDam # Latestbengalinews #DVC


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
আইনশৃঙ্খলার পাঠ : বিহারের কাছে কি পশ্চিমবঙ্গকে শিখতে হবে ?